“আমি চেয়ারের কেয়ার করি না!” ইস্তফা বিতর্কে সরাসরি মোদী-শাহকে নিশানা মমতার, এবার কোন পথে বাংলা?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ার পথে থাকলেও, নিজের অবস্থানে অনড় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে তিনি কখন রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন, সেই অপেক্ষায় যখন গোটা রাজ্য, তখনই কালীঘাটে দাঁড়িয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন তৃণমূল নেত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, পদত্যাগ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

“পদত্যাগ কেন করব?” মঙ্গলবার বিকেলের সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি চরম ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? আমরা তো হারিনি। জোর করে দখল করে কেউ যদি ভাবে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে, সেটা হবে না। আমরাই জিতেছি, আমাদের হারানো হয়েছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপির জয়কে চ্যালেঞ্জ জানালেন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে তুলনা নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, “কলেজ জীবন থেকে আমি অনেক ভোট দেখেছি। ২০০৪ সালে একাও লড়েছি। আমি রাজীব গান্ধী, অটল বিহারি বাজপেয়ী, আইকে গুজরালদের সরকার দেখেছি। কিন্তু বর্তমান সরকারের মতো সৌজন্যহীন সরকার আমি জীবনে দেখিনি।” তিনি স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের প্রতি তাঁর কোনও মোহ নেই, কিন্তু এই ‘অগণতান্ত্রিক’ জয় তিনি মেনে নেবেন না।

ভোট লুঠের গুরুতর অভিযোগ নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তুলে মমতা বলেন, অন্তত ১০০টি আসন তৃণমূলের থেকে লুঠ করা হয়েছে। এর পিছনে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির সরাসরি যোগসাজশ বা ‘গট আপ বেটিং’ কাজ করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গণনার সময় দেখা গিয়েছে ইভিএম-এ ৯২-৯৫ শতাংশ ব্যাটারি চার্জ ছিল, যা অস্বাভাবিক। পুলিশ অফিসারদেরও নিজেদের ইচ্ছেমতো বদলে দিয়েছিল তারা।” এই গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত বলে তোপ দাগেন তিনি।

এখন কী হবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে বিজেপি সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল। সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এখন দেখার, রাজভবন এই পরিস্থিতিতে কী ভূমিকা গ্রহণ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy