মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার সোজাসুজি যুদ্ধের ডঙ্কা বাজিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যেখানে তাঁকে হাতে একটি রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে এবং ক্যাপশনে বড় বড় অক্ষরে লেখা— “No More Mr. Nice Guy!” (অর্থাৎ, আমি আর ভালো মানুষ নই)।
কেন এমন মারকুটে মেজাজে ট্রাম্প? দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা নিয়ে আমেরিকার সাথে তেহরানের সংঘাত তুঙ্গে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান আলোচনার নামে সময় নষ্ট করছে। তিনি লিখেছেন, “ইরান বুঝতে পারছে না কীভাবে একটি অ-পরমাণু চুক্তিতে সই করতে হয়। ওদের এখনই বুদ্ধিমান হওয়া উচিত, নাহলে দেরি হয়ে যাবে।”
কী আছে সেই ছবিতে? ট্রাম্পের শেয়ার করা এআই (AI) জেনারেটেড ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বিস্ফোরণ ঘটছে আর তিনি সানগ্লাস পরে অস্ত্র হাতে বীরের বেশে দাঁড়িয়ে। এই ছবির মাধ্যমেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনার দিন শেষ, এবার প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতেও পিছপা হবে না ওয়াশিংটন।
যুদ্ধের প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
নৌ-অবরোধ: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের বন্দরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ বা ব্লকেড তৈরি করতে।
পরমাণু আতঙ্ক: ট্রাম্পের হুঙ্কার, “ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যদি ওরা তা করে, তবে গোটা বিশ্ব জিম্মি হয়ে পড়বে।”
মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ একাধিক সংস্থা ট্রাম্পের এই ‘ধ্বংসাত্মক’ বার্তার নিন্দা করেছে। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই হুমকি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে।
কিং চার্লসও কি ট্রাম্পের পাশে? মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে এক নৈশভোজের পর ট্রাম্প দাবি করেন, কিং চার্লসও তাঁর সাথে একমত যে ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তি হতে দেওয়া যাবে না। যদিও বাকি বিশ্বনেতারা এই উত্তেজনায় ঘি না ঢেলে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছেন।
ভোটের আবহে ট্রাম্পের এই ‘অ্যাংরি ম্যান’ অবতার কি কেবলই রাজনৈতিক চমক, না কি সত্যিই ইরানকে ‘পাথরের যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার নীল নকশা? সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা পৃথিবী।





