পবিত্র মৌনী অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে প্রয়াগরাজের মাঘ মেলায় বেনজির বিশৃঙ্খলা। উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও শিষ্যদের ওপর হামলার অভিযোগে গঙ্গার পবিত্র স্নান ত্যাগ করলেন জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। মাঝপথ থেকেই তাঁর পালকি ঘুরিয়ে আখড়ায় ফিরে যান তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সঙ্গম নগরী।
ঠিক কী ঘটেছিল? শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ যখন তাঁর বিশাল শিষ্যবাহিনী নিয়ে পালকিতে চড়ে রাজকীয় স্নানের জন্য সঙ্গম নোজের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ভিড় নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব মোহিত গুপ্তের উপস্থিতিতে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে শঙ্করাচার্যের অনুগামীদের প্রবল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, দু-পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা চলছে। শঙ্করাচার্যের দাবি, তাঁর শিষ্যদের মারধর করা হয়েছে এবং স্বয়ং তাঁকে ও তাঁর অনুগামীদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।
পাল্টা যুক্তি পুলিশের প্রশাসনের দাবি, মৌনী অমাবস্যায় প্রায় ৩ কোটির বেশি মানুষের ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিষ্যদের দলে দলে ভাগ হয়ে এগোতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে একসঙ্গে এগোতে গেলেই সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং সম্মানের হানি হচ্ছে বুঝে অভিমুক্তেশ্বরানন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যেখানে ভক্তদের ওপর হামলা হয়, সেখানে আমি স্নান করব না।”
তিন কোটি ভক্তের সমাগম ও পুষ্পবৃষ্টি এত বড় বিশৃঙ্খলার মাঝেও কিন্তু সাধারণ ভক্তদের ঢল থামেনি। রাত ১২টা থেকেই সঙ্গমে ভিড় জমতে শুরু করেছে। যোগী সরকারের পক্ষ থেকে হেলিকপ্টারে করে পুণ্যার্থী ও সাধু-সন্তদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ নজরদারিতে রাখতে ড্রোন, সিসিটিভি এবং এসডিআরএফ-এনডিআরএফ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই ব্যবস্থাপনার মাঝেও খোদ শঙ্করাচার্যের সঙ্গে এই দুর্ব্যবহারের ঘটনা এখন দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।