যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবি নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের মতে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প অন্তত ৩৯ বার এমন ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরানের সাথে একটি চুক্তি হতে চলেছে। প্রতিটি বারই ট্রাম্পের এই আশাবাদ বাস্তবের মুখ দেখেনি।
কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ট্রাম্পের দাবি? ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সম্ভাব্য চুক্তিটিকে তাদের বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করতে চাইলেও, বাস্তব চিত্রটি বেশ ভিন্ন। এই ব্যর্থতার পেছনে প্রধান তিনটি কারণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
১. পরমাণু কর্মসূচি ও নিয়ন্ত্রণ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল দাবি হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা। অন্যদিকে, ইরান বারবার বলে আসছে তাদের কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ব্যবহারের জন্য এবং তারা পারমাণবিক সক্ষমতা ত্যাগের কোনো চুক্তিতে রাজি নয়। ২. হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটির দখল বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে ইরান একেবারেই অনিচ্ছুক। এই কৌশলগত সমুদ্রপথটি নিয়ে উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান আলোচনার পথ বারবার রুদ্ধ করে দিচ্ছে। ৩. ইরানের অস্বীকৃতি: ট্রাম্প যখনই চুক্তির কথা বলেন, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রায়ই তা প্রত্যাখ্যান করেন। সর্বশেষ এই সপ্তাহেও তেহরান জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের ‘চুক্তি আসন্ন’ জাতীয় বক্তব্য নিছকই জল্পনা এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্তেজনার পারদ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যদিও এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতির চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তার পরেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা থামেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বারবার ‘চুক্তি আসন্ন’ বলার পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আমেরিকার সাধারণ জনগণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক তা চাইছে না, তাই প্রেসিডেন্ট বারবার শান্তি চুক্তির কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে চূড়ান্ত দলিল বা উভয়পক্ষের সম্মতির অভাবে এই দাবিগুলো কেবল কথার কথা হয়েই থেকে যাচ্ছে।
আগামী কয়েকদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের অনমনীয় শর্তাবলীর মধ্যে কোনো নমনীয়তা আসে কি না, তার ওপর।





