বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের ছায়া কি এবার ভারতের বাজারে? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতার মাঝে শুক্রবার সন্ধ্যায় সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এই বৈঠকের পর থেকেই দেশজুড়ে দানা বেঁধেছে নতুন এক জল্পনা— তবে কি দেশে ফের ফিরছে লকডাউন?
লকডাউন নিয়ে কী জানাল কেন্দ্র?
কোভিড অতিমারি পর্বের স্মৃতি উসকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে ‘টিম ইন্ডিয়া’র মতো একজোট হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘এনার্জি লকডাউন’ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে কোনো লকডাউন হচ্ছে না। পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের (LPG) পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে দেশে। অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা:
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অনিশ্চিত’ বলে উল্লেখ করে মোদী রাজ্যগুলিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন:
কালোবাজারি রুখতে কড়া নজর: জ্বালানি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কৃত্রিম অভাব তৈরি করে কেউ যাতে মুনাফা লুটতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গুজব দমন: ভুয়ো খবর বা ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে যাতে জনমানসে আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা: বিশেষ করে সীমান্ত ও উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিকে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর:
প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্র বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে সারের জোগান এবং সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
বিকল্প পথের সন্ধান:
দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকেই সৌরশক্তি ও বায়োফুয়েলের মতো বিকল্প শক্তির প্রসার এবং দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়াও পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয়দের পরিবারের সহায়তার জন্য বিশেষ হেল্পলাইন ও কন্ট্রোল রুম খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে।