“আপনার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালাচ্ছেন” স্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

লখনউয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা সমাজ। এক ভয়াবহ অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল এবং তার স্ত্রী, যিনি নিজেও একজন পুলিশকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধারাবাহিক যৌন হেনস্থা এবং পরবর্তীকালে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সাহায্যের আশায় ওই কনস্টেবলের স্ত্রীর কাছে গেলে নাবালিকার ওপর আরও ভয়াবহ অত্যাচার নেমে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা কিশোরী তার পরিবারের সঙ্গে লখনউয়ের লালপুর এলাকায় বসবাস করে। তাদের ঘরের ঠিক বিপরীতে, একই আবাসনে থাকেন অভিযুক্ত কনস্টেবল এবং তার স্ত্রী। এই দুটি পরিবারের জন্য একটিই বাথরুম বরাদ্দ। ফলে কিশোরীকে বাথরুমে যাওয়ার জন্য অভিযুক্ত কনস্টেবলের ঘরের সামনে দিয়ে যেতে হতো। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতেন অভিযুক্ত কনস্টেবল। অভিযোগ, প্রায়শই তিনি কিশোরীকে একা পেয়ে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করতেন। কু-কথা থেকে শুরু করে অশালীন স্পর্শ, কিছুই বাদ যেত না বলে কিশোরী অভিযোগ করেছে।

অভিযুক্ত কনস্টেবল কিশোরীকে এতটাই ভয় দেখিয়েছিল যে, সে পরিবারের কাউকে কিছুই বলতে পারছিল না। প্রায় দুই মাস ধরে অভিযুক্ত কনস্টেবল লাগাতার কিশোরীর শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ। অসহায় কিশোরী শেষ পর্যন্ত এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অভিযুক্ত কনস্টেবলের স্ত্রীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তিনিও একজন পুলিশকর্মী। কিন্তু, একজন পুলিশকর্মী হয়ে সমস্যার সমাধান তো দূর, উল্টে তিনি নিজেও স্বামীর সঙ্গে মিলে কিশোরীকে নির্মমভাবে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

কিশোরী জানিয়েছে, ঘটনার দিন তারা দোতলার ছাদে কথা বলছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডার পর অভিযুক্তের স্ত্রী কিশোরীর কাছে এই অভিযোগের প্রমাণ চান এবং স্বামীকে ডেকে আনেন। এরপর ওই কনস্টেবল কিশোরীকে বেদম মারধর করেন এবং দু’জন মিলে তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ।

উপর থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচলেও, গুরুতর চোট পেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নির্যাতিতা। তার একটি পা ভেঙে গেছে এবং মেরুদণ্ডেও গুরুতর চোট লেগেছে। এখানেই শেষ নয়, কিশোরীর মুখ বন্ধ করতে অভিযুক্ত দম্পতি তার বাবার উপরেও হামলা চালায়। তিনিও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনায় কনস্টেবল দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল ইমার্জেন্সি ডায়াল ১১২ বিভাগে কর্মরত এবং তার স্ত্রী স্থানীয় থানাতেই কনস্টেবল পদে পোস্টিং রয়েছে। মঙ্গলবার বিবিডি থানায় দম্পতি এবং মহিলা কনস্টেবলের ভাই, যিনি দম্পতির সঙ্গেই থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে একটি FIR দায়ের করা হয়েছে।

এই ভয়াবহ ঘটনা সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল পেশার মানুষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। এই ঘটনা কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত পেশার মানুষের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতি এক চরম আঘাত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy