মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার বড়সড় সতর্কতা জারি করল নবান্ন। ২০২৬ সালের বর্ধিত ভাতা (সাধারণদের জন্য ১,৫০০ এবং এসসি/এসটি-দের জন্য ১,৭০০ টাকা) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, একটি সামান্য ভুলে আটকে যেতে পারে আপনার টাকা। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যে সামান্যতম গরমিল থাকলে নাম কেটে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন টাকা আটকে যাচ্ছে? নবান্ন সূত্রে খবর, বর্তমানে ‘ডিবিটি’ (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘ব্যাঙ্ক ভ্যালিডেশন’ (Bank Validation) অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীর তথ্য সঠিক থাকলেও ব্যাঙ্ক ভ্যালিডেশনে সবুজ সংকেত মিলছে না। ফলে পেমেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন শুরু হলেও টাকা ঢুকছে না হাজার হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে।
যে ৪টি ভুলের জন্য বন্ধ হতে পারে ভাতা:
১. আধার ও নামের অমিল: আবেদনপত্রের নামের বানানের সঙ্গে আধার কার্ডের নাম হুবহু এক হওয়া প্রয়োজন। সামান্য পার্থক্যের কারণেও সিস্টেম আবেদন স্থগিত করে দিচ্ছে। ২. ব্যাঙ্ক আইএফএসসি (IFSC) কোড: অনেক ব্যাঙ্ক মার্জ হওয়ার ফলে আইএফএসসি কোড বদলে গিয়েছে। পুরনো কোড ব্যবহার করলে পেমেন্ট রিজেক্ট হয়ে যাচ্ছে। ৩. আধার ও ব্যাঙ্ক লিঙ্কিং: আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা না থাকলে টাকা ঢুকবে না। ডিবিটি মোড চালু থাকা এবং কেওয়াইসি (KYC) আপডেট থাকা এখন বাধ্যতামূলক। ৪. স্বাস্থ্যসাথী ও মোবাইল নম্বর: স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নম্বর ভুল হওয়া বা আবেদনপত্রের মোবাইল নম্বরটি নিষ্ক্রিয় থাকলেও ভেরিফিকেশন ব্যাহত হচ্ছে।
কীভাবে সমাধান করবেন? নবান্নের পক্ষ থেকে উপভোক্তাদের অতি দ্রুত নিজেদের ‘বেনিফিশিয়ারি স্ট্যাটাস’ (Beneficiary Status) চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যদি সেখানে ‘Bank Validation Failed’ বা ‘Application Rejected’ দেখায়, তবে দেরি না করে স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিস বা নিকটবর্তী ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে যোগাযোগ করতে হবে।
মনে রাখবেন, সরকার টাকা ছাড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে আপনার তথ্যের নির্ভুলতার ওপরই নির্ভর করছে সেই টাকা আপনার হাতে পৌঁছাবে কি না।





