রাজ্যের মহিলাদের জন্য সুখবর। আর মাত্র ৫ দিনের অপেক্ষা, তারপরই ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে তাঁর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা এখন থেকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সদ্য নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যারা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তারা সকলেই এখন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতাভুক্ত হবেন। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে বর্ধিত আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে মমতা সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মহিলারা শুরুতে ৫০০ টাকা করে পেতেন। পরবর্তীকালে সেই ভাতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমে ১০০০ টাকা এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫০০ টাকায় পৌঁছায়। এপ্রিল মাস পর্যন্ত সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছিলেন। নতুন সরকার সেই ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৩ হাজার টাকায় উন্নীত করল, যা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায় বড় ভূমিকা নেবে।
এই আর্থিক অনুদান সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে নতুন সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার জন্য এখন থেকে আধারের (Aadhaar) সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তিকরণ বা লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিবিটি (DBT) বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার পদ্ধতির মাধ্যমেই এই টাকা পাঠানো হবে। এর ফলে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই এই সুবিধা পাবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত আবেদনকারীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে তাদের সিঙ্গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করে নেন। অন্যথায় অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে সমস্যা হতে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, সরকারি অনুদানের সুবিধা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি সাধারণ মহিলাদের হাতে পৌঁছায়। ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলায় রাজ্যজুড়ে মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।





