ভারতীয় ক্রিকেট জগতে আজ যেন আনন্দ আর বিষাদের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। একদিকে যখন মুম্বইয়ে ভারতীয় মহিলা দলের ইতিহাস গড়ার লড়াই, ঠিক তখনই ত্রিপুরা থেকে এল এক হৃদয়বিদারক খবর। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় (Road Accident) প্রাণ হারালেন ত্রিপুরার প্রাক্তন রঞ্জি ক্রিকেটার এবং ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য রাজেশ বণিক (Rajesh Banik)। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪০ বছর।
দুর্ঘটনা ঘটল কীভাবে?
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম ত্রিপুরার আনন্দনগরে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাক্তন এই অলরাউন্ডারকে দ্রুত আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ত্রিপুরা তথা দেশের ক্রিকেট মহলে।
প্রতিভাবান অলরাউন্ডার, দায়িত্বশীল নির্বাচক
ত্রিপুরা ক্রিকেট সংস্থার সচিব সুব্রত দে সংবাদমাধ্যমে জানান, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শুধু একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই নয়, একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান নির্বাচককেও হারালাম।”
তিনি আরও বলেন, রাজেশ বণিক ত্রিপুরা দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন। তরুণ প্রতিভা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দারুণ দক্ষতা থাকায়, তাঁকে সদ্যই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তারকাদের সতীর্থ ছিলেন রাজেশ
রাজেশ বণিকের কেরিয়ার ছিল সম্ভাবনাময়। তিনি ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে খেলেছিলেন। সেই সময় তিনি ছিলেন ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার ইরফান পাঠান এবং অম্বাতি রায়ডুর মতো খেলোয়াড়দের সতীর্থ। ঘরোয়া ক্রিকেটে ত্রিপুরার হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
এক ঝলকে রাজেশের পরিসংখ্যান:
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট: ৪২ ম্যাচে ১৪৬৯ রান এবং ২টি উইকেট।
লিস্ট ‘এ’ ফরম্যাট: ২৪ ম্যাচে ৩৭৮ রান ও ৮টি উইকেট।
টি-২০: ১৮ ম্যাচে ২০৩ রান।
২০১৮ সালে ওড়িশার বিরুদ্ধে শেষ রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলেন রাজেশ।
ক্রিকেট আকাশে শূন্যতা
রাজেশ বণিকের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর সাবেক সতীর্থ, কোচ এবং ত্রিপুরার হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, “রাজেশ শুধু একজন ভালো ক্রিকেটারই ছিলেন না, ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষও।”
আজ যখন গোটা দেশ ভারতীয় মহিলা দলের জয়ের আশায় বুক বাঁধছে, তখন রাজেশ বণিকের এই মর্মান্তিক মৃত্যু ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।