আনন্দ নয়, অত্যাচার!’ বিসর্জনে বিশৃঙ্খলা ঢাকতে নিরীহ ভক্তদের উপর বলপ্রয়োগ, রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ বিরোধী দলনেতার

জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় সাধারণ মানুষের উপর পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, কোতোয়ালি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস নিজে উপস্থিত থেকে ভক্তদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন ও হুমকি দিয়েছেন। ভিডিওতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাও স্পষ্ট দেখা গিয়েছে।

পুলিশ ব্যবহারে ক্ষুব্ধ শুভেন্দু: ‘নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অত্যাচার’
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে পুলিশকর্মীরা নিরঞ্জনে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে ধাওয়া করছেন। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন,

“জগদ্ধাত্রী পুজোয় আনন্দ ও উন্মাদনা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পুলিশ বরং সাধারণ হিন্দুদের উপরই অত্যাচার চালিয়েছে। যদি যথেষ্ট নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ থাকত, তাহলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হত না। কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পুলিশ উল্টে জনগণের উপর বলপ্রয়োগ করেছে।”

এক্স পোস্টে শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, “মমতা পুলিশের প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই অবাঞ্ছিত বলপ্রয়োগ করা। মানুষকে সম্মান জানিয়ে পরিস্থিতি সামলানো যেত, কিন্তু বরাবরের মতোই পুলিশ নিরপরাধ ভক্তদের উপর নেমে পড়েছে।”

পাল্টা বিবৃতি পুলিশের: ‘শৃঙ্খলা ফেরাতে মৃদু লাঠিচার্জ’
অন্যদিকে, এই অভিযোগের পরই এক্স হ্যান্ডেলে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণনগরজুড়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং দুই দিনে ২০০০-এরও বেশি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

পুলিশের দাবি, গোলমাল শুরু হয় শুধুমাত্র কদমতলা ঘাটে চকেরপাড়া ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে। অভিযোগ, ক্লাবের সদস্যরা মহিলা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং মারধরের চেষ্টা চালায়। পুলিশ জানায়,

“দুর্বৃত্তদের ছত্রভঙ্গ করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মৃদু লাঠিচার্জ করা হয়।”

পুলিশ আরও অভিযোগ করে, চকেরপাড়া ক্লাবের সদস্যরা আগেও একই ধরনের গোলমাল সৃষ্টি করেছিলেন।

এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগের জেরে রাজ্যজুড়ে আবারও ‘পুলিশের পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে কঠোরতা দেখাচ্ছে। তবে তৃণমূল শিবির বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা প্রয়োজন তাই করেছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy