আধার কার্ডে নাম-ঠিকানা বদল এখন আরও সহজ! জেনে নিন কোন কোন সরকারি নথি এবার কার্যকর

ভারতবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হলো আধার কার্ড। এই আধার কার্ডের তথ্য আপডেট এবং এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বড়সড় পরিবর্তন আনল আধার ইস্যুকারী সংস্থা UIDAI (Unique Identification Authority of India)। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে UIDAI জানিয়েছে, এখন থেকে আধার কার্ডের তথ্য সংশোধন বা নতুন কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে নথিপত্রের তালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সুবিধার্থেই এই পদক্ষেপ।

নথিপত্রের নতুন তালিকা একনজরে
এখন থেকে যেকোনো বয়সের ব্যক্তি আধার কার্ডে নিজের নাম, ঠিকানা, সম্পর্কের প্রমাণ বা জন্মতারিখ আপডেট করার জন্য একগুচ্ছ বিকল্প সরকারি নথি ব্যবহার করতে পারবেন। আধার এনরোলমেন্টের জন্য গ্রহণযোগ্য নথির মধ্যে রয়েছে— ই-ভোটার আইডি, ই-রেশন কার্ড, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিলের মতো ইউটিলিটি বিল, পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO), ম্যারেজ সার্টিফিকেট, ডিভোর্স ডিক্রি এবং সরকারি বিমা পলিসি। এছাড়া ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিটকেও বৈধ প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তথ্য আপডেটে কী কী লাগবে?
আধার তথ্য আপডেটের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জন্ম সার্টিফিকেট এবং সরকার প্রদত্ত পরিষেবা পরিচয়পত্র (Service ID) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও কিষাণ সচিত্র পাসবুক, এসটি/এসসি/ওবিসি সার্টিফিকেট, এবং রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র (Transgender ID Card) আধার সংশোধনের জন্য গ্রহণ করা হবে। এমনকি বন্দিদের জন্য ‘প্রিজনার ইনডাকশন ডকুমেন্ট’ (Prisoner Induction Document) এবং রিফিউজি বা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য নির্ধারিত সার্টিফিকেটকেও বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ বিধান ও শর্তাবলি
UIDAI স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, জমা দেওয়া সমস্ত নথিপত্র বর্তমানে বৈধ হতে হবে এবং আবেদনকারীর নিজের নামেই ইস্যু করা থাকতে হবে। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে দেওয়া নথিতে আবেদনকারীর নাম এবং ছবি থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, সমস্ত নথিতে নাম ও জন্মতারিখের বানান একই হওয়া প্রয়োজন।

শিশু ও রূপান্তরকামীদের জন্য নিয়ম
৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের আধার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ‘পরিবারের প্রধান’ (HoF)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে শিশুর জন্ম সার্টিফিকেটের পাশাপাশি বাবা-মা বা অভিভাবকের নথি জমা দেওয়া এখন থেকে বাধ্যতামূলক। রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের জন্য ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষা আইন, ২০১৯’-এর অধীনে ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটকেই বৈধ প্রমাণ হিসেবে মানা হবে।

আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সুরক্ষা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আধার কার্ডের জন্য জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা (DSWO) বা স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর সংবলিত সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফরম্যাটের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে। মূলত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং নাগরিক হয়রানি কমাতে এই সরলীকরণ করা হয়েছে। আপনার আধারের তথ্য যদি অনেক পুরনো হয়ে থাকে, তবে নিকটস্থ আধার সেন্টারে গিয়ে বা অনলাইনে নতুন তালিকার নথি অনুযায়ী দ্রুত তা আপডেট করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্র।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy