আদানিদের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি, ‘গড়মিল’ প্রমাণিত হলেই কড়া পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার

ভারতের আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি (Power Purchase Agreement) নিয়ে কঠোর অবস্থানে এলো অন্তর্বর্তী প্রশাসন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০১৭ সালে হওয়া এই চুক্তিটিতে কোনো অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কাজ জোর কদমে শুরু হয়েছে।

🚫 ‘গড়মিল’ প্রমাণিত হলেই বাতিল
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফজুল কবির জানিয়েছেন, এই চুক্তির ব্যাপারে কোনো অস্বচ্ছতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্যতম উপদেষ্টা কবির বলেন:

“প্রাথমিকভাবে তাতে কোনো অস্বচ্ছতার বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। যদি আগামিদনে জানা যায় ওই চুক্তি সংক্রান্ত কোনও ব্যাপারে গড়মিল করা হয়েছিল, তাহলে তাঁদের সরকার সেই চুক্তি বাতিল করতে দিতে দ্বিধা করবে না।”

যদিও এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আদানিদের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

🔍 তদন্ত কমিটির নজরদারিতে চুক্তি
বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী-র নেতৃত্বে গঠিত এই তদন্ত কমিটি সম্প্রতি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

দুর্নীতির খোঁজ: বিচারপতি মইনুল ইসলাম জানান, তাঁদের ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি বিদ্যুতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং সরকারি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক ফাঁকফোকর চোখে পড়েছে বলে জানতে পেরেছে।

চূড়ান্ত রিপোর্ট: মনে করা হচ্ছে, জানুয়ারি মাসে কমিটি তাদের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, তাঁদের হাতে এমন কিছু তথ্য এসে পৌঁছেছে যা থেকে বোঝা যাচ্ছে আগামী দিনে দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মিলতে পারে।

💰 বিল বকেয়া ও আইনি জটিলতা
২০১৭ সালের এই চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানিদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত তাপবিদ্যুতের শতভাগ ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশে সরবরাহ করার কথা।

বকেয়ার সমস্যা: সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জুন মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খরচ বাবদ আদানিদের ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করলেও, বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে সমস্যা অব্যাহত থাকায় আদানিরা একসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ক্ষেত্রে রাশ টেনেছিল।

আইনি সতর্কতা: আদানিদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি নিয়ে ইউনূস প্রশাসনের শীর্ষস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী স্বাধীন মালিক সতর্ক করে দিয়েছেন, আদানির মতো সংস্থার সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করার আগে সরকারকে সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ ভুল পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আদালতে মোটা জরিমানা দিতে হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy