আচিপুর থেকে ট্যাংরা: চিনা অভিবাসীদের ভোট পেতে অভিনব কৌশল জাভেদ খানের!

তিলোত্তমার বুকে এক টুকরো বেজিং! বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই এবার কলকাতার চিনা সম্প্রদায়ের মন জয়ে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষ করে কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাভেদ খান তাঁর নির্বাচনী প্রচারের জন্য বেছে নিয়েছেন এক অভিনব পথ— ট্যাংরার চায়না টাউনের দেওয়ালে দেওয়ালে এখন শোভা পাচ্ছে ম্যান্ডারিন (Mandarin) ভাষায় লেখা গ্রাফিতি।

ভোটের সমীকরণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই চিনা পাড়া? একসময় কলকাতার তিরেত্তা বাজার ও ট্যাংরা এলাকায় চিনা সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫০,০০০। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩,০০০ থেকে ৪,০০০-এ। যদিও সংখ্যাতত্ত্বে তাঁরা কম, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির কাছে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ:

  • তহবিলের উৎস: চামড়া শিল্প ও রেস্তরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই সমৃদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষেরা রাজনৈতিক দলগুলির জন্য ফান্ডের বড় উৎস।

  • সাংস্কৃতিক প্রতীক: কলকাতার কসমোপলিটান বা মিশ্র সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই চিনারা। তাঁদের সমর্থন পাওয়া মানে বিশ্বজনীন ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা।

ইতিহাসের পাতায় কলকাতার চিনা সংযোগ: কলকাতায় এই সম্প্রদায়ের শিকড় অনেক গভীর। ১৭৭৮ সালে টং আচু নামে এক চিনা নাগরিক প্রথম বজবজের কাছে চিনিকল স্থাপন করেন। তাঁর নামানুসারেই ওই এলাকার নাম হয় ‘আচিপুর’। পরবর্তীকালে তিরেত্তা বাজারে এবং ১৯২০-র দশকে ট্যাংরায় চামড়া শিল্পকে কেন্দ্র করে চিনা বসতি গড়ে ওঠে।

জনসংখ্যার এক করুণ পরিসংখ্যান: ১৯৬২-র ভারত-চীন যুদ্ধের সময় বহু চিনা নাগরিককে রাজস্থানের ক্যাম্পে বন্দি করা হয়। সেই তিক্ত স্মৃতির পর থেকে ব্যাপক হারে দেশত্যাগ শুরু হয়। একনজরে তাঁদের জনসংখ্যা হ্রাসের তালিকা:

  • ১৯৬০: ৫০,০০০

  • ১৯৯০: ১০,০০০

  • ২০২৬: ৩,০০০-৪,০০০ (আনুমানিক)

ভোটার তালিকায় কোপ! ২০২৬-এর ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, কলকাতার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৮৪ জন চিনা-ভারতীয়র নাম বাদ পড়েছে। যার মধ্যে অনেকেরই হদিশ মেলেনি অথবা তাঁরা পরলোকগমন করেছেন।

কাকে ভোট দেন চিনারা? ইন্ডিয়ান চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই সম্প্রদায়টি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা। সাধারণত তাঁরা সরকারি সাহায্যের জন্য লাইনে দাঁড়ান না। তবে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট সচেতন এবং প্রায় প্রত্যেকেই ভোট দেন। জাভেদ খানের মতো প্রার্থীরা তাই মনে করছেন, তাঁদের মাতৃভাষায় (ম্যান্ডারিন) আবেদন করলে তাঁদের হৃদয়ে পৌঁছানো সহজ হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy