দিনের ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির আগেই শহরবাসীকে চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার ভোরে কলকাতার গঙ্গাবক্ষে নৌকা বিহারে দেখা গেল তাঁকে। তবে এই সফরের প্রস্তুতি ছিল একেবারে গোপনে। খোদ নৌকাচালকরাও ঘুণাক্ষরে টের পাননি যে তাঁদের নৌকায় সওয়ার হতে চলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
গোপন ছিল সফরের খবর নৌকাচালকরা জানিয়েছেন, আগের রাতে এক চা-ওয়ালা এসে তাঁদের জানিয়েছিলেন সকালে পুজোর জন্য ৭টি নৌকা লাগবে। সেই মতোই তাঁরা প্রস্তুতি রেখেছিলেন। কিন্তু ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ ২ নম্বর গেট দিয়ে যখন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী হেঁটে ঘাটে আসেন, তখন অবাক হয়ে যান সকলে। জনৈক এক নৌকাচালক বলেন, “ভাবছিলাম কবে আসবেন, হঠাৎ আজ চলে আসলেন! আমাদের দেখে খুব খুশি হয়েছেন উনি।”
কত টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী? প্রধানমন্ত্রীর গঙ্গা ভ্রমণের খরচ বা ‘বিল’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল ছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এক নৌকাচালক জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করেন এবং হাওড়া ব্রিজের আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা নৌকা নিয়ে ঘোরেন। ভ্রমণের শেষে প্রধানমন্ত্রী কোনো অতিরিক্ত আড়ম্বর না করে সাধারণ যাত্রীর মতোই ভাড়া মিটিয়েছেন। নৌকাচালকের কথায়, “বেশি না বিল, অল্প… ওই যা হয়েছে তাই দিয়ে গিয়েছেন। হাজার টাকা।”
সকালটা কাটল গঙ্গার ঢেউয়ে প্রায় এক ঘণ্টা গঙ্গার মাঝখানে নৌকা করে ঘোরেন প্রধানমন্ত্রী। কখনও হাওড়া ব্রিজের দিকে তাকিয়ে ছবি তুললেন, আবার কখনও উপভোগ করলেন গঙ্গার শান্ত পরিবেশ। নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ মেজাজ দেখে আপ্লুত বাবুঘাটের মাঝি-মাল্লারা।
ঠাসা নির্বাচনী প্রচারের মাঝে কলকাতার সকালে মোদীর এই ‘নৌকা বিহার’ এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।





