আম আদমি পার্টিতে (AAP) ভাঙন যেন আর থামছেই না। রাঘব চাড্ডার দলত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধস নামল খোদ সংসদীয় নেতৃত্বে। মাত্র ১৫ দিন আগে রাঘবকে সরিয়ে যাঁকে রাজ্যসভায় আপ-এর ডেপুটি লিডার (উপনেতা) করা হয়েছিল, সেই শিল্পপতি তথা সাংসদ অশোক মিত্তাল এবার হাত মেলালেন বিজেপির সঙ্গে। পঞ্জাবের রাজনীতিতে এই দলবদল কেজরিওয়াল শিবিরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করা হচ্ছে।
১৫ দিনের নাটকের যবনিকা পতন
গত ২ এপ্রিল, ২০২৬-এ রাঘব চাড্ডার ডানা ছেঁটে অশোক মিত্তালকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল আম আদমি পার্টি। রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে তাঁকে উপনেতা করার কথা জানানো হয়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, মিত্তালের মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকে সামনে রেখে পঞ্জাবে সংগঠন মজবুত করতে চেয়েছিলেন কেজরিওয়াল। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মিত্তালের দলত্যাগ আপ নেতৃত্বের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
ইডি হানা ও ‘ভয়’ কি দলত্যাগের নেপথ্যে?
অশোক মিত্তালের দলত্যাগের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ রয়েছে বলে জল্পনা তুঙ্গে।
ঘটনা: গত ১৫ এপ্রিল ফেমা (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে মিত্তালের জলন্ধরের বাড়ি এবং লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (LPU) ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
ফলাফল: টানা তিন দিনের সেই হানার রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি।
৭ সাংসদের ইস্তফা: রাজ্যসভায় অস্তিত্বের সঙ্কটে আপ!
শোনা যাচ্ছে, রাঘব ও মিত্তাল ছাড়াও হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, সন্দীপ পাঠক, রাজেন্দ্র গুপ্তা এবং বিক্রমজিৎ সাহানির মতো হেভিওয়েট সাংসদরা বিজেপির পথে। যদি এই ৭ জনই দল ছাড়েন, তবে রাজ্যসভায় আপ-এর শক্তি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
‘গদ্দার’ বলে তোপ ভগবন্ত মানের
সাংসদদের এই দলবদল নিয়ে রণংদেহি মেজাজে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। দলত্যাগীদের সরাসরি “গদ্দার” আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন:
“বিজেপি পঞ্জাবের পিঠে ছুরি মারল। পঞ্জাবে বিজেপির কোনো জনভিত্তি নেই, তাই তারা আমাদের ঘর ভেঙে রাজনীতি করতে চাইছে।”
অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই ঘটনাকে পঞ্জাবিদের সঙ্গে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে বর্ণনা করেছেন।





