আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশিকে কেন্দ্র করে দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে শুরু হলো এক নজিরবিহীন আইনি যুদ্ধ। কয়লা পাচার মামলার সূত্রে হওয়া এই তল্লাশিতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন—এই মর্মে শীর্ষ আদালতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাল্টায়, নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই ইডি এই ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ অভিযান চালিয়েছে বলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ইডির গুরুতর অভিযোগ: বিচারপতি পি কে মিশ্রের বেঞ্চে ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা দাবি করেন, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক দপ্তরে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং পুলিশ কমিশনার ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। ইডির অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকারী আধিকারিকদের কাজে বাধা দেন।
ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল উপকরণ ও একটি ‘সবুজ ফাইল’ নিজের হাতে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান।
তদন্তকারী আধিকারিকের ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা চাল: তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল কড়া ভাষায় এই অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “২ বছর ধরে ইডি চুপ ছিল কেন? ঠিক ভোটের মুখেই কেন আইপ্যাক দপ্তরে হানা দেওয়া হলো?” সিব্বলের দাবি, কোনো প্রমাণ নয়, বরং তৃণমূলের গোপন নির্বাচনী কৌশল এবং ডেটা চুরি করাই ছিল এই অভিযানের আসল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান যে, মুখ্যমন্ত্রী কেবল আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ও আইফোন নিয়েছিলেন, যাতে দলের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা চলাকালীন যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, “আদালত কক্ষ কি যন্তর মন্তর?” অন্যদিকে, অভিষেক মনু সিংভি একে ‘ফোরাম শপিং’ বলে অভিহিত করলেও আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই পক্ষের বক্তব্য বিস্তারিত শোনা প্রয়োজন।
পরবর্তী পদক্ষেপ: সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এই ফুটেজই নির্ধারণ করবে সেদিন আইপ্যাক দপ্তরে আসলে কী ঘটেছিল।





