সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুফল কি চিরকাল একই পরিবারে পাওয়া উচিত? অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে ‘ক্রিমি লেয়ার’ বা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল পরিবারগুলোর সংরক্ষণ সুবিধা পাওয়া নিয়ে এবার বড় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, সামাজিক গতিশীলতার মাধ্যমে যারা ইতিমধ্যে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে, তাদের কি নতুন করে কোটার প্রয়োজন আছে?
শুনানি চলাকালীন আদালত উদাহরণ দেয়, যে পরিবারের বাবা-মা দুজনেই আইএএস অফিসার, তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠবে না? আদালতের মতে, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন ঘটলে সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। তাই একই পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণের সুবিধা নিতে থাকলে সামাজিক বৈষম্য কখনোই দূর হবে না।
আইনজীবীদের একাংশ দাবি করেছেন যে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (EWS) এবং ক্রিমি লেয়ারের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। পাল্টা জবাবে বিচারপতি নাগরত্ন জানান, EWS-এর ক্ষেত্রে শুধু অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা বিচার্য, কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণের মূল ভিত্তি সামাজিক অনগ্রসরতা। তবে আদালতের মতে, এখানে একটি ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। যদি বাবা-মা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে উচ্চপদস্থ সরকারি চাকরিতে আসীন হতে পারেন, তবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই সুবিধা বহাল রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে শীর্ষ আদালত। ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্দিরা সাহানি’ মামলার প্রেক্ষাপটে এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।





