সকালের জলখাবারে একটা সেদ্ধ ডিম না হলে ঠিক চলে না। আমরা জানি ডিমের হলুদ অংশটিকে ‘কুসুম’ বলা হয়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, ডিমের সাদা অংশটির একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম আছে? আজ জানাব ডিমের এই স্বচ্ছ অংশের পরিচয় এবং কেন এটি স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত।
সাদা অংশের আসল নাম কী?
ডিমের হলুদ অংশের নাম কুসুম (Yolk) হলেও, এর সাদা অংশের বৈজ্ঞানিক নাম হলো অ্যালবুমেন (Albumen)। বাংলায় একে অনেকে সহজভাবে ‘শ্বেতাংশ’ বলে থাকেন। এটি মূলত একটি ঘন স্বচ্ছ তরল স্তর যা কুসুমকে মাঝখানে ধরে রাখে এবং ভ্রূণকে সুরক্ষা প্রদান করে। রান্নার পর এই অংশটিই সাদা রঙ ধারণ করে।
কেন খাবেন এই ‘অ্যালবুমেন’ বা সাদা অংশ?
ডিমের সাদা অংশ মূলত পুষ্টির ভাণ্ডার। এতে যা যা রয়েছে:
বিশুদ্ধ প্রোটিন: অ্যালবুমেন বা সাদা অংশে প্রায় ৯০% জল এবং ১০% উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। এর প্রধান প্রোটিনের নাম ওভ্যালবুমিন, যা শরীরের পেশি মজবুত করতে এবং টিস্যু মেরামতে অপরিহার্য।
ফ্যাট ও কোলেস্টেরল মুক্ত: কুসুমের তুলনায় সাদা অংশে ক্যালোরি অত্যন্ত কম। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে ফ্যাট বা কোলেস্টেরল একেবারেই নেই। তাই হৃদরোগী ও ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এটি আদর্শ।
ভিটামিন ও মিনারেল: এতে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন) থাকে, যা শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
কুসুম বনাম সাদা অংশ: কোনটি সেরা?
পুষ্টিবিদদের মতে, সাদা অংশে প্রোটিন বেশি থাকলেও কুসুমে থাকে প্রয়োজনীয় ফ্যাট, আয়রন, ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে।
পেশি গঠন করতে চাইলে: ডিমের সাদা অংশ বেশি উপকারী।
সার্বিক পুষ্টির জন্য: সুস্থ মানুষের পুরো ডিমটিই খাওয়া উচিত।
কোলেস্টেরল বা ওজনের সমস্যা থাকলে: কুসুম বাদ দিয়ে শুধু ‘অ্যালবুমেন’ বা সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সারসংক্ষেপ: ডিমের সাদা অংশের নাম অ্যালবুমেন। এটি পেশি গঠনের কারিগর এবং ফ্যাট-মুক্ত হওয়ার কারণে হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।





