প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং আমলাতন্ত্রের জটিলতা কাটাতে এবার কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ সচিবদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। সেখানে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অস্বচ্ছতা নিয়ে রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দেন, এখন থেকে কোনো কাজই আর ‘মৌখিক’ নির্দেশে চলবে না; সব ক্ষেত্রে লিখিত নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক।
কাজের গতি ফেরাতে বড় নির্দেশ এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফাইল দপ্তরে দপ্তরে পড়ে থাকছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ পরিষেবা পেতে দেরি করছেন। তিনি নির্দেশ দেন, ফাইলে সই করার ক্ষেত্রে বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দোদুল্যমানতা রাখা চলবে না। প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
স্বচ্ছতায় জোর: ‘মৌখিক আর নয়’ বৈঠকের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি সচিবদের উদ্দেশে বলেন, “প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে। অনেক সময় ওপরতলার কোনো মৌখিক নির্দেশে কাজ আটকে থাকে বা নিয়ম না মেনে কাজ হয়। এখন থেকে যা নির্দেশ আসবে, তা লিখিত হতে হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নথিবদ্ধ প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো কাজ হবে না।” এর মাধ্যমে প্রশাসনিক দুর্নীতিতে রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
পরিষেবা পৌঁছাতে হবে দুয়ারে সরকারি পরিষেবা যেন কেবল নবান্ন বা মহাকরণের চার দেওয়ালে আটকে না থাকে, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। নিচুতলার আধিকারিকরা ঠিকমতো কাজ করছেন কি না, তা দেখার দায়িত্ব সচিবদের ওপর ন্যস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কাজে গাফিলতি দেখা গেলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
এদিনের এই কড়া মেজাজের বৈঠক থেকে স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই প্রশাসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং কাজের গতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে। আগামী কয়েক দিনে এই নির্দেশের পর সচিবালয়ে কাজের গতি কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।





