সরকারি ব্যাঙ্ক কর্মীদের বহু প্রতীক্ষিত বেতন সংশোধন (Salary Revision) নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। দীর্ঘ টালবাহানা বন্ধ করতে এবার ব্যাঙ্কগুলোকে সরাসরি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশ, আগামী ১২ মাসের মধ্যেই বেতন সংশোধনের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফাইল ক্লোজ করতে হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যাঙ্ক কর্মীরা তাঁদের বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
১৩তম দ্বিপাক্ষিক চুক্তির তোড়জোড়
গত ২০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ (DFS) থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর প্রধানদের কাছে একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ১৩তম দ্বিপাক্ষিক চুক্তির (13th Bi-partite settlement) জন্য আলোচনার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে হবে। এই বেতন সংশোধন ১ নভেম্বর ২০২৭ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, কেন্দ্রের লক্ষ্য এবার আগেভাগেই সব প্রক্রিয়া সেরে ফেলা।
অর্থ মন্ত্রকের কড়া নির্দেশিকার মূল পয়েন্ট:
১২ মাসের ডেডলাইন: বেতন নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করার পর সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে তা শেষ করতে হবে।
বিগত অভিজ্ঞতার শিক্ষা: সাধারণত বেতন সংশোধনের প্রক্রিয়া ৫ বছর অন্তর হলেও তা চূড়ান্ত হতে অনেক সময় লেগে যায়। এবার সেই দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতে চাইছে কেন্দ্র।
আইবিএ-কে দায়িত্ব: ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর সাথে দ্রুত আলোচনায় বসে একটি সম্মানজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়।
“শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সময়মতো বেতন সংশোধন জরুরি। তাই আগামী ১২ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” — অর্থ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
উপকৃত হবেন লক্ষ লক্ষ কর্মী
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোতে কর্মরত অফিসার এবং কর্মচারী মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সিদ্ধান্তের সুফল পাবেন। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এই নতুন চুক্তিতে ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ১২তম দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও ব্যাঙ্ক কর্মীদের বড় অংকের বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল, এবারও সেই ধারা বজায় থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বেতন সংশোধনের ফাইল ১২ মাসে শেষ করার এই ‘অ্যাকশন মোড’ কি তবে ব্যাঙ্ক কর্মীদের জন্য সেরা উপহার হতে চলেছে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসেই।





