বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ আর অস্থিরতার আবহে একজোট হলো ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং (Lee Jae Myung)-এর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট বার্তা দেন, “এই বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার যুগে ভারত ও কোরিয়া মিলে সারা বিশ্বকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।”
‘ট্রাস্টেড’ থেকে ‘ফিউচারিস্টিক’ পার্টনারশিপ প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গতিশীল হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি-র এই সফরে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ককে ‘Trusted Partnership’ থেকে এক ধাপ এগিয়ে ‘Futuristic Partnership’ বা ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়েছে। মোদী বলেন, “চিপস থেকে জাহাজ, ট্যালেন্ট থেকে টেকনোলজি, বিনোদন থেকে এনার্জি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা একসঙ্গে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব।”
২৫টি বড় সিদ্ধান্ত ও ৪টি মউ স্বাক্ষর এদিনের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেশন কমিটি: ছোট ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে যৌথ কমিটি গঠন।
ইকোনমিক সিকিউরিটি ডায়ালগ: গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সাপ্লাই চেইন সুরক্ষিত রাখতে নয়া আলোচনা শুরু।
ডিজিটাল ব্রিজ: এআই (AI), সেমিকন্ডাক্টর এবং আইটি সেক্টরে ভারতের সঙ্গে কোরিয়ার সরাসরি সংযোগ।
সাংস্কৃতিক বিনিময়: ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি।
রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি ও শান্তির বার্তা এদিন ভাষণের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “প্রায় ১০০ বছর আগে গুরুদেব কোরিয়াকে ‘প্রাচ্যের আলো’ (Lamp of the East) বলেছিলেন। ২০৪৭-এর উন্নত ভারত গড়ার লক্ষে কোরিয়া আমাদের এক অপরিহার্য অংশীদার।” পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়া ভারতের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ (ISA) এবং ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ওশেন ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দেওয়ায় বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের গ্লোবাল সাউথ নেতৃত্ব প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং ভারতের প্রশংসা করে বলেন, “ভারত বর্তমানে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমরা ডিফেন্স, শিপবিল্ডিং এবং এআই-এর মতো ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দুই দেশই একমত হয়েছে যে, বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রপুঞ্জ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।





