জয়ের হ্যাটট্রিক আর হলো না। জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে এগিয়ে গিয়েও ১-২ গোলে হার মানতে হলো ইস্টবেঙ্গলকে। অস্কার ব্রুজোর দলের এই হারে যতটা না বিপক্ষের কৃতিত্ব, তার চেয়েও বেশি প্রশ্ন উঠছে কোচের কিছু ‘অবোধ্য’ সিদ্ধান্ত নিয়ে। কেন চলন্ত ম্যাচ থেকে ফর্মে থাকা বিপিন বা এজ্জাজারিকে তুলে নিলেন তিনি? কেনই বা দ্বিতীয়ার্ধে অতি-রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলল লাল-হলুদ? এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমর্থকদের মনে।
শুরুতে দাপট, এডমুন্ডের গোল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৪১ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসে এডমুন্ড লালরিন্ডিকার পা থেকে। বাঁ দিক থেকে বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রস বিপক্ষ ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরীর মাথায় লেগে এডমুন্ডের কাছে আসতেই ঠান্ডা মাথায় গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। প্রথমার্ধে রক্ষণে রাকিপকে নামিয়ে অস্কার যে চাল চেলেছিলেন, তা শুরুতে সফল মনে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে তা বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
কোচের ভুল সিদ্ধান্ত ও জামশেদপুরের কামব্যাক দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খোলসের মধ্যে ঢুকে যায় ইস্টবেঙ্গল। বিপিন সিং এবং পরে এজ্জাজারিকে তুলে নেওয়াটাই যেন কাল হলো। উল্টোদিকে জামশেদপুর আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। ৬০ মিনিটে সেটপিস থেকে গোল করে সমতা ফেরান স্টিফেন এজে। গোলকিপার প্রভসুখান গিল একা তালালকে রুখে দিলেও ফিরতি আক্রমণ আটকাতে ব্যর্থ হয় রক্ষণ।
রেইতার বিশ্বমানের গোল এবং হার ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে জাপানিজ ফুটবলার রেইতা চিকাওয়ার এক চোখধাঁধানো শটে স্বপ্নভঙ্গ হয় লাল-হলুদ শিবিরের। মাদিহ তালালের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে জালের ওপরের কোণে বল জড়িয়ে দেন রেইতা। শেষ কয়েক মিনিটে মরিয়া আক্রমণ চালালেও সমতা ফেরাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বা কৌশলগত—যেকোনো লড়াইয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যে বিপদ ডেকে আনে, লাল-হলুদের এই হার তারই প্রমাণ। নন্দাকুমারকে অফ-ফর্মে থাকা সত্ত্বেও মাঠে রাখা বা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া নিয়ে অস্কার ব্রুজোকে যে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, তা নিশ্চিত।