২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের ১০ দিন পার হয়ে গেলেও লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তাঁদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি নিয়ে কোনও সুসংবাদ পাননি। বিগত বছরগুলোতে সাধারণত মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরুতেই এই ঘোষণা চলে এলেও, এবছর সরকারের এই নীরবতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কেন এই বিলম্ব? বিশেষজ্ঞদের ৪টি বড় কারণ:
১. অষ্টম বেতন কমিশনের উত্তরণ কাল: সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। সরকার এখন অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সন্ধিক্ষণে প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই ঘোষণার সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। ২. প্রশাসনিক ধাপ ও অনুমোদন: অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অনুমোদনের ফাইলের দীর্ঘসূত্রিতা এই বিলম্বের একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ৩. মুদ্রাস্ফীতির নিখুঁত বিশ্লেষণ: সরকার সম্ভবত মুদ্রাস্ফীতির তথ্যগুলো খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে, যাতে সরকারি খাতের তারল্য পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব সঠিক থাকে। ৪. আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা: বর্তমান বিলম্ব কোনও কোভিড-কালীন সঙ্কটের মতো নয়, বরং এটি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি সূক্ষ্ম সমন্বয়ের অংশ মাত্র।
কতটা বাড়তে পারে ডিএ (DA)? AICPI-IW-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি হতে পারে। এর ফলে বর্তমান হার ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছাবে।
কবে আসবে খুশির খবর? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই ঘোষণা আসতে পারে। অর্থাৎ আর কয়েকদিনের মধ্যেই জট কাটতে পারে।
আর্থিক ক্ষতির কোনও সম্ভাবনা আছে কি? না! বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে, ঘোষণা আসতে দেরি হলেও কর্মচারীদের কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না। সংশোধিত ডিএ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে ঘোষণার পর বকেয়া বা এরিয়ার (Arrear) হিসেবে প্রাপ্য টাকা হাতে পাবেন কর্মীরা।





