‘অশিক্ষিত, অভদ্র সাংসদ!’ তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল তুঙ্গে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল যেন আর ঢাকার উপায় নেই। লোকসভার মুখ্যসচেতক পদ থেকে সরানো এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ডামাডোলের পর, এবার সরাসরি দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ দায়ের করে চাঞ্চল্য ছড়ালেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুধু অভিযোগই নয়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নারীবিদ্বেষী’ ও ‘অশালীন’ তকমা দিয়ে তাঁর শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।

গত ১৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার মুখ্যসচেতক পদে পুনর্বহাল করা হয়। এরপর থেকেই কাকলির ক্ষোভ প্রকাশ পেতে থাকে। গত রবিবার তিনি বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়েন এবং মঙ্গলবার দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে এক বিস্ফোরক চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি শুধু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নয়, দলের বর্তমান দুর্নীতি ও আইপ্যাক-এর আধিপত্য নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেছেন।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, “আমার বিবেক আজ গভীর ভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। আরজি কর কাণ্ড এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, লোকসভার অভ্যন্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁকে মৌখিকভাবে নিগ্রহ করেছেন। কাকলির কথায়, “যে পদে থাকাকালীন একজন মহিলা সাংসদ অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ আটকাতে পারেন না, সেই পদে থাকার কোনো মানে হয় না।” আইপ্যাক-এর অগণতান্ত্রিক প্রভাব নিয়েও তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

পাল্টা জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এক হাত নিয়েছেন কাকলিকে। তিনি বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমিই মুখ্যসচেতক ছিলাম। মাঝে কয়েক মাস ছিলাম না। ওঁর কিসের এত ক্ষোভ? নারদা কাণ্ডে তো আমি টাকা নিইনি, উনি নিয়েছেন। রাজ্যের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে, তা সকলেই জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাকলির এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। একদিকে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা, অন্যদিকে স্পিকারের কাছে সহকর্মী সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—এই দ্বিমুখী লড়াই শাসকদলকে যে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ নেতৃত্ব এই সংঘাত থামাতে কী ব্যবস্থা নেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy