মণিপুরের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট ও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের তৎপরতা রুখতে মণিপুরে সিআরপিএফ (CRPF)-এর বিশেষ এলিট কমান্ডো বাহিনী ‘কোবরা’ (CoBRA) মোতায়েনের অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা ও অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠার পর, এই প্রথম সেখানে কোবরা ব্যাটালিয়ন পাঠানো হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে আসা একটি বিশেষ প্রস্তাবকে মান্যতা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং ঘন জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তা অভিযানকে আরও জোরালো করতেই এই বিশেষ ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২০৭তম কোবরা ব্যাটালিয়ন এবং আসাম থেকে ২১০তম কোবরা ব্যাটালিয়নকে দ্রুত মণিপুরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই এলিট কমান্ডো ইউনিটের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে তাদের অপারেশনাল দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
মণিপুরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সেখানে চলমান অস্থিরতার প্রকৃতি বিবেচনা করেই কোবরা বাহিনীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে গঠিত ‘কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশন’ বা কোবরা হলো সিআরপিএফ-এর একটি উচ্চপ্রশিক্ষিত বিশেষ ইউনিট। গেরিলা যুদ্ধ, জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় শত্রু নিধন, গোয়েন্দা-ভিত্তিক বিশেষ অপারেশন এবং দুর্গম ভূখণ্ডে চরম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য এদের বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে প্রায় ১,০০০ জন করে দক্ষ কমান্ডো থাকেন, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যভেদে সিদ্ধহস্ত।
মূলত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বামপন্থী চরমপন্থা বা নকশালবাদ দমনে কোবরা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং বিহারের মতো নকশাল-প্রভাবিত রাজ্যগুলোতে তাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তবে মণিপুরে এই বিশেষ বাহিনীর মোতায়েন উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। কর্মকর্তাদের মতে, মণিপুরে সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় এই বাহিনী ‘টার্গেটেড অপারেশন’ বা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালাবে, যা বিদ্রোহীদের দমনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেন্দ্র সরকারের এই পদক্ষেপ মণিপুরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে পারে। রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই কমান্ডোদের মোতায়েন সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই এলিট কমান্ডোদের উপস্থিতিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের দৌরাত্ম্য কতটা কমে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।





