নিজেদের কোল আলো করে এসেছে পুত্রসন্তান। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবেসে শিশুটির নাম রেখেছেন ‘আপন’। কিন্তু বীরভূমের সোনালি খাতুনের জীবনে ‘আপন’ মানুষটিই আজও পরবাসী। বাংলাদেশে আটক স্বামী দানিশ শেখ কবে ফিরবেন, সেই আশায় চাতক পাখির মতো দিন গুনছেন সোনালি। তবে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে এখনই কোনো সুখবর মিলল না। কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মামলার শুনানি আরও দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুন মাসে। সেই সময় দিল্লি পুলিশ সোনালি খাতুন, দানিশ শেখসহ ১৬ জনকে আটক করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরব হওয়ার পর গত ডিসেম্বরে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি ও তাঁর ৮ বছরের বড় ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু পরিবারের প্রধান দানিশ শেখসহ আরও চারজন এখনও বাংলাদেশের জেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে আবেদন করেন যে, তাঁদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে, তাই আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। অন্যদিকে, সোনালির বাবা ভাদু শেখের আইনজীবী দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে বলেন যে, কলকাতা হাইকোর্ট ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল। দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে আদালত আগামী দুই সপ্তাহ পর পরবর্তী দিন ধার্য করেছে।
সোনালির কোল জুড়ে এখন নতুন অতিথি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাখা ‘আপন’ নামটি সার্থক হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের ওপর। বাবা কি শেষ পর্যন্ত নিজের সদ্যোজাত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পাবেন? প্রতীক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে বীরভূমের এই পরিবারটির জন্য।