গত মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুরের’ অভূতপূর্ব সাফল্য ভারতের সামরিক কৌশলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই অপারেশনে ইসরায়েলি হেরন এমকে II (Heron Mk II) ড্রোনগুলোর অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও বেশি সংখ্যক এই অ্যাডভান্সড ইউএভি (আনম্যান্ড অ্যারিয়াল ভেহিকল) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিন বাহিনীর জরুরি ক্রয়
সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই সাফল্য দেখে সেনা, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনী—তিন বাহিনীই—জরুরি ক্রয়ের মাধ্যমে হেরন এমকে II-এর অতিরিক্ত ইউনিট কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জরুরি ক্রয়ে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্তের চুক্তি সরাসরি স্বাক্ষর করা যায়, যা নিয়মিত প্রক্রিয়ার দীর্ঘতা এড়াতে সাহায্য করে।
-
নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ: আগে সেনা এবং বিমানবাহিনী লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে উত্তেজনার সময় এই ড্রোন কিনেছিল। এবার নৌবাহিনীও মার্ক টু-এর চুক্তিতে যুক্ত হওয়ায় এই ড্রোনগুলির সামরিক গুরুত্ব প্রমাণিত।
-
ক্ষমতা বৃদ্ধি: এই ড্রোনগুলোতে অ্যাডভান্সড সেন্সর, ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স পেলোড এবং স্পাইক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ইন্টিগ্রেশনের পরিকল্পনা চলছে। এতে শুধু নজরদারি নয়, আঘাতকারী ক্ষমতাও যোগ হবে।
অপারেশন সিঁদুরে হেরন এমকে II-এর ভূমিকা
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ৭ মে সকালে এই অপারেশন শুরু করে।
-
নজরদারির ক্ষমতা: হেরন এমকে II ড্রোনগুলো এই অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড্রোনগুলো ৪৫ ঘণ্টা অবিরাম উড়ে ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব কভার করে রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইলেন্স এবং রেকনেসেন্স (আইএসআর) প্রদান করেছিল।
-
সহযোগিতা: স্যাটেলাইট-লিঙ্কড এই ড্রোনগুলো পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ব্রহ্মোস এবং স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল হামলার ডকুমেন্টেশন থেকে শুরু করে পুরো অপারেশনের প্রক্রিয়া মনিটরিং করে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ
অতিরিক্ত ক্রয়ের পাশাপাশি, মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের অধীনে ২০ হাজার কোটি টাকার মিডিয়াম অলটিটিউড লং এনডিউরেন্স (MALE) ড্রোন চুক্তিতে ইসরায়েলের আইএআই (ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ) সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উন্নয়ন ভারতের আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।