‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আজ সংসদে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে চরম উত্তেজনার সময় মোদী সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এমনকি, পাকিস্তান যখন ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ইসলামাবাদে তা মেনে নেওয়ার বার্তা পাঠানো হয়েছিল—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাহুল।
রাহুল গান্ধী বলেন, “আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৯ বার বলেছেন, তিনি যুদ্ধ থামিয়েছেন। যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর ৫০ শতাংশ সাহসও থাকে, তবে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলুন—‘ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যে বলছেন’। যদি সাহস থাকে, এখানেই বলুন, ট্রাম্প মিথ্যেবাদী।” প্রধানমন্ত্রী কেন এই বিষয়ে চুপ আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বারবার মোদীকে আক্রমণ করে বলেন, “যদি ট্রাম্প মিথ্যে বলেন, তাহলে তা সংসদে সরাসরি বলুন।”
তাঁর বক্তব্যে রাহুল স্পষ্ট জানান যে, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী সীমিত হামলা চালিয়েছিল, কারণ তাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা সেনা ঘাঁটিতে আঘাত না করতে। তাঁর দাবি, “আমরা আক্রমণ চালালেও, আমাদের পাইলটদের হাত বাঁধা ছিল।”
রাহুল আরও বলেন, “অপারেশন সিঁদুর শুরু হয় রাত ১টা ৫ মিনিটে এবং চলে ২২ মিনিট। অথচ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ভারতের তরফ থেকে পাকিস্তানকে জানানো হয়, আমরা কোনও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করিনি, যুদ্ধ বাড়াতে চাই না।”
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, সেই রাতেই ভারতের ডিজিএমও-কে (Director General of Military Operations) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করতে। তাঁর বক্তব্য, “এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে, মোদী সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।”
ভাষণের শেষে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাদের এমন একজন প্রধানমন্ত্রী দরকার নয়, যাঁর সাহস নেই সংসদে দাঁড়িয়ে বলার যে ট্রাম্প মিথ্যে বলছেন। ট্রাম্প যেন না বলতে পারেন, যুদ্ধ আমি থামিয়েছি।” রাহুলের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য সংসদের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করে তুলেছে।