দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর এলাকায় একটি সরকারি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪,০০০ ইভিএম (EVM) পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনা নেহাত দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো অন্তর্ঘাত, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।
ঘটনার সূত্রপাত: বুধবার দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর এলাকার একটি নয়তলা সরকারি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কার্যালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়েই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতায় প্রায় ৪,০০০ ইভিএম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। জানা গেছে, এই ইভিএমগুলো সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ১০টি আসনে ব্যবহৃত হয়েছিল।
মন্ত্রীর বক্তব্যে রহস্যের ইঙ্গিত: ঘটনার আকস্মিকতা নিয়ে খোদ রাজ্যের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুন লাগলেও কেন মাঝের তলাগুলো এড়িয়ে তা সরাসরি সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় ছড়িয়ে পড়ল, তা অত্যন্ত রহস্যজনক। এই অস্বাভাবিকতা থেকেই নাশকতার সন্দেহ দানা বাঁধছে। ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে প্রশাসন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-এর দাবি, এই অগ্নিকাণ্ড সম্পূর্ণ ‘পূর্বপরিকল্পিত’। যদিও বিরোধীদের অভিযোগের সপক্ষে এখনও কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তে প্রশাসন: দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলিপুর থানায় ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করছেন। আগুন কি বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে লেগেছে, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে— তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে ভবনটি কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ওপরই পুরো ঘটনার সত্যতা নির্ভর করছে।





