অপেক্ষার অবসান। আগামীকাল, ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মহারণ। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে প্রস্তুত সাধারণ মানুষ। তবে বুথমুখী হওয়ার আগে প্রতিটি ভোটারের জন্য বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে বাইক চলাচল এবং বুথের ভেতরে প্রবেশের নিয়ম নিয়ে বড়সড় কড়াকড়ি থাকছে এবারের নির্বাচনে।
বাইক চলাচলে বড় বিধিনিষেধ নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোট চলাকালীন বাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না। যারা নিজের বাইকে করে ভোট দিতে যাবেন, তারা ছাড় পাবেন ঠিকই, কিন্তু কোনোভাবেই দলবদ্ধ হয়ে বাইক চালানো বা বাইক র্যালি করা যাবে না। এমনকি বাইকের পেছনে আরোহী (Pillion Rider) বসানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নজরদারি। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইকের অবাধ ব্যবহারে রাশ টানা হয়েছে।
ভোটারদের জন্য ‘মাস্ট নো’ গাইডলাইন:
পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক: ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটার আইডি কার্ড (EPIC) সাথে রাখা জরুরি। তবে কার্ড না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই; আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্টের মতো সরকার স্বীকৃত ১২টি বিকল্প নথির যেকোনো একটি দেখিয়েও আপনি ভোট দিতে পারবেন।
মোবাইল ফোন ও গ্যাজেট নিষিদ্ধ: বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিজের ভোট কাউকেই ভিডিও করতে বা ছবি তুলতে দেওয়া হবে না।
বুথের ১০০ মিটারের নিরাপত্তা: বুথের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক ক্যাম্প বা জমায়েত করা যাবে না। এমনকি কোনো দলের নাম বা প্রতীক সংবলিত পোশাক বা মাস্ক পরে বুথে প্রবেশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
সময়সীমা: সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। তবে সন্ধ্যা ৬টার সময় যারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তারা প্রত্যেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নিরাপত্তায় জোর কমিশনের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিসিটিভি ক্যামেরায় চলবে কড়া নজরদারি। কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বা নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করলে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আগে নিয়মগুলো একবার ঝালিয়ে নিন, যাতে উৎসবের মেজাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।





