UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে পুজোয় কোটি টাকার প্রতারণা! ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ED হানা

দুর্গাপুজোর মরশুমের ঠিক আগে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। কলকাতার প্রায় ১৫টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তল্লাশি চলছে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি সহ একাধিক ঠিকানায়। অভিযোগ উঠেছে, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে এবং ভুয়ো পাস বিক্রি করে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই কলকাতার দুর্গাপুজোকে ব্যবসায়িক ছকে ফেলে টাকা তোলার একটি চক্র তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দা সেন একটি সংস্থা তৈরি করেছিলেন। যে সংস্থাটির মাধ্যমেই প্রি-পুজো টিকিট বা প্রিভিউ শো-এর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করা হতো। শহরের বাছাই করা ২৪টি নামী পুজো কমিটিকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হলেও, পুরো প্রক্রিয়ায় ইউনেস্কোর কোনো অনুমোদন বা সংযোগ ছিল না বলেই দাবি করা হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, এই সংস্থার আসল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা। ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে টিকিট বিক্রি করা হতো, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। গত জুন মাসে বউবাজার থানায় এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অর্থ তছরুপ বা প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং আইনে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গত তিন বছরে এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বড় বড় স্পনসরশিপ এবং টিকিটের বিক্রিত অর্থের একটি খুব সামান্য অংশ পুজো কমিটিগুলোর হাতে পৌঁছাত, আর বাকি সিংহভাগ টাকা চলে যেত প্রভাবশালী মহলের পকেটে। মন্ত্রী পদে থাকার সুবাদে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দুর্নীতির জাল ছেঁড়াতেই আজ মঙ্গলবার সকালে ১৫টি জায়গায় হানা দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া জানতে অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।