১৩ বছর পর ফের বায়ুসেনার পোশাকে স্কোয়াড্রন লিডার! স্বামীর মৃত্যুর পর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে মিলল বিচার

পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য আজ থেকে ১৩ বছর আগে ভারতীয় বায়ুসেনার চাকরি স্বেচ্ছায় ছেড়েছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামী তথা বায়ুসেনার ফাইটার পাইলট উইং কমান্ডার হর্ষিত সিনহা ২০২১ সালে মিগ-২১ বিমান দুর্ঘটনায় শহিদ হন। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে একা হয়ে যাওয়া প্রিয়াঙ্কা পুনরায় বায়ুসেনায় ফেরার আইনি লড়াই শুরু করেন। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বায়ুসেনাকে তাঁকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০০৩ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার লজিস্টিক্স শাখায় শর্ট সার্ভিস কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনা। প্রায় এক দশক সফলভাবে দেশসেবা করার পর, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে নিজের স্বামী ও ছোট সন্তানের দেখাশোনার জন্য তিনি চাকরির মেয়াদ বাড়াননি এবং পার্মানেন্ট কমিশনের পথও বেছে নেননি। কিন্তু ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজস্থানের জয়সলমেরের কাছে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী উইং কমান্ডার হর্ষিত সিনহার আকস্মিক প্রয়াণ তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। এই চরম দুর্দিনের পর তিনি পূর্বের অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে ফের বায়ুসেনার ইউনিফর্মে ফেরার জোরালো আবেদন জানান।

যদিও ভারতীয় বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন খারিজ করে জানিয়েছিল যে, যুদ্ধবিধবাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর, যা প্রিয়াঙ্কা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করে ফেলেছেন। এরপর তিনি আর্মড ফোর্সেস ট্রাইব্যুনালের (AFT) দ্বারস্থ হন। ট্রাইব্যুনাল সরকারকে এজাতীয় বিশেষ ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের নীতি তৈরির পরামর্শ দিলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্বস্তি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে দেশের শীর্ষ আদালত এই বিশেষ এবং সংবেদনশীল মামলায় সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের একবার গর্বের ভারতীয় বায়ুসেনার পোশাকে দেখা যাবে স্কোয়াড্রন লিডার প্রিয়াঙ্কা সাক্সেনাকে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত মানবিক ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।