৬ মাসের সর্বনিম্নে সেনসেক্স! শেয়ার বাজারে রক্তক্ষয়ী পতনে মাথায় হাত কোটি কোটি বিনিয়োগকারীর

ভারতীয় শেয়ার বাজারে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই ভয়াবহ ধস অব্যাহত রয়েছে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও সেনসেক্স ও নিফটি মারাত্মক পতনের শিকার হয়ে গত ছয় মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। এদিন সকালে বাজার খোলামাত্রই সেনসেক্স ৬০০ পয়েন্টেরও বেশি কমে ৭২,১৪৭ অঙ্কে নেমে আসে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ১৭৭ পয়েন্ট খসে ২২,৬০০-র ঘরে লেনদেন করছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।

বাজারের এই রক্তাক্ত পতনের পেছনে অন্যতম প্রধান খলনায়ক হয়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil)। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৩৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬.৭ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতিতে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর পাশাপাশি, মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডের বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পরিস্থিতি আরও শোচনীয় করে তুলেছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) বেপরোয়া শেয়ার বিক্রি। বিগত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৩.৫৩ বিলিয়ন টাকার শেয়ার এক দিনে বিক্রি করে তাঁরা বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিয়েছেন। যদিও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DIIs) প্রায় ৫১.৮৯ বিলিয়ন টাকার শেয়ার কিনে বাজারকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও বাজারের এই বিশাল পতন ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এই সামগ্রিক পতনের মাঝেও নির্দিষ্ট কিছু স্টক খবরের শিরোনামে রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) গৌতম আদানি সহ চার কোম্পানির বিরুদ্ধে চলা ন্যূনতম পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং সংক্রান্ত তদন্ত শেষ করেছে এবং নামমাত্র জরিমানা ধার্য করেছে, যা আদানি গ্রুপের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি, আরবিআই-এর নিয়মের বাধ্যবাধকতা এড়াতে টাটা ট্রাস্টস তাদের দুটি সংস্থাকে টাটা সন্সের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করায় টাটা গ্রুপের শেয়ারেও ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির জেরে শেয়ার বাজারের এই অস্থিরতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।