“৬টি মামলাতেই স্বস্তি!”-নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে হাইকোর্টের বিরাট রায়

আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় আইনি জয় পেয়ে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তিনি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ থেকে এই জামিন মঞ্জুর হওয়ার ফলে ভোটের মরশুমে জেলের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে বড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস শিবির।
আইনজীবীদের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খেজুড়ি থানায় দুটি এবং নন্দীগ্রাম থানায় চারটি সহ মোট ছ’টি মামলা ঝুলছিল। সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই সমস্ত মামলাতেই তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে ভোটের দিন অর্থাৎ আগামী ৬ অক্টোবর এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিন ৯ অক্টোবর— উভয় দিনই হাসিমুখে নন্দীগ্রামে উপস্থিত থাকতে পারবেন মিলন প্রধান। শুধু তাই নয়, ভোটের শেষ মুহূর্তের প্রচারেও তাঁকে সশরীরে দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জামিনের কড়া শর্ত ও প্রতিক্রিয়া হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কুড়ি হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা নিম্ন আদালতে হাজির হতে হবে এবং এরপর বিচারক আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালতের তরফে এও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, জামিনে থাকাকালীন পুলিশ আধিকারিকরা দিনে দু’বার তাঁকে ফোন করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে তথ্য জানতে চাইতে পারবেন। মিলন প্রধানকে সবরকমভাবে পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
এই রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। মিলনের ভাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ এবং দিনরাত এক করে পরিশ্রম করা কর্মীরা নতুন করে অক্সিজেন পেলেন। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিজেপি ভয় পেয়ে গিয়েছিল। মহামান্য আদালতের এই রায় প্রমাণ করল যে মিথ্যা বেশিদিন টেকে না, আজ সত্যেরই জয় হয়েছে।