লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। আর ঠিক ভোটের মুখেই বিজেপির বিরুদ্ধে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বাঁকুড়ার ওন্দার জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ১০০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের একটি ‘গোপন চুক্তি’ করেছে বিজেপি।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে শোরগোল
তৃণমূল নেত্রীর এই বিস্ফোরক দাবির কেন্দ্রে রয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার জন্য ১০০০ কোটি টাকার চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি সেই চুক্তির ২০০ কোটি টাকা নাকি অগ্রিম (Advance) হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম।
মোদীকে পাল্টা আক্রমণ
শনিবার মুর্শিদাবাদের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেছিলেন যে, পরাজয়ের ভয়ে তৃণমূল এআই (AI) ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও ছড়াচ্ছে। এদিন নাম না করে তার পাল্টা জবাব দেন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন:
“যদি ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরিই হবে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে কেন তা স্বীকার করছেন? কেন তাঁকে রক্ষা করতে আপনারা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন?”
‘চরিত্র গিরগিটির মতো’, তোপ মমতার
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গেরুয়া শিবির হিন্দু-মুসলিম উভয় পক্ষকেই বিভ্রান্ত করছে। তাঁর কথায়, “ওদের চরিত্র গিরগিটির মতো বদলায়।” এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি— ভোটের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সমর্থন আদায়ের জন্য তৃণমূলের একাধিক নেতামন্ত্রীকে ভয় দেখানো শুরু করেছে বিজেপি।
হুমায়ুন কবীরের দাবি
গোটা বিতর্ক শুরু হয়েছে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ঘিরে। প্রথমে ভিডিওটিকে এআই-নির্মিত বলে উড়িয়ে দিলেও, পরে তিনি দাবি করেন যে ভিডিওটির একটি বিশেষ অংশ কাটা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তিনি পুরো ভিডিও প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
নির্বাচনের মুখে এই ১০০০ কোটির ‘ডিল’ বিতর্ক যে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে ঘি ঢালল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, বিজেপির পক্ষ থেকে এই গুরুতর অভিযোগের কী পালটা জবাব আসে।





