আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু হতেই ফের রাজ্যের রাজনৈতিক মহলকে উত্তপ্ত করে তুলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা ‘স্পেশাল এনরোলমেন্ট রিভিশন’ (SIR)। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এবার দলের নেতা-কর্মীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলের এক অভ্যন্তরীণ ভার্চুয়াল বৈঠকে শমীক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “এসআইআর-এ কোনও গাফিলতি চলবে না। না হলে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি কঠিন সময়ের মুখে পড়বে।”
‘তৃণমূল দখল করে নেবে কার্যালয়’, চরম হুঁশিয়ারি শমীকের
শমীক ভট্টাচার্য এদিন হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, যদি দলের নেতা-কর্মীরা এই এসআইআর-এর কাজ নিয়ে সামান্যতম অবহেলা করেন, তবে এর ফল হবে ভয়ানক। তিনি বলেন, “জেলায় জেলায় যেভাবে আমাদের সুদৃশ্য কার্যালয় তৈরি হয়েছে, সবকটাই দখল করে নেবে তৃণমূল। তখন আর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে রাজনীতি হবে না। এমনকি, ভার্চুয়াল বৈঠক করার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না!”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কড়া বার্তা দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বুথস্তরীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা যাওয়া অনীহা দূর করা। বহু জায়গায় বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ-২) হিসেবে কাজ করতে কর্মীদের মধ্যে আগ্রহের অভাব দেখা যাচ্ছে।
বুথে বুথে অনীহা, চিন্তায় রাজ্য নেতৃত্ব
জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বুথ এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই উপস্থিতি আশানুরূপ হচ্ছে না। যাঁরা এই বিএলএ প্রশিক্ষণ ও এসআইআর রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে শমীকের কড়া বার্তা, “যদি মনে করেন, এটা আর পাঁচটা কাজের মতোই, তাহলে ভুল করছেন। এটা শুধুমাত্র দায়িত্ব নয়, এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন।” এই প্রক্রিয়াতেই দলের বুথ-ভিত্তিক সংগঠন মজবুত করার দিকে জোর দিতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, এই SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “এসআইআর-এর বিরোধিতা করলে গুলি খেতে হবে।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, শাসক তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির সঙ্গে টক্কর দিতে এখন বিজেপি কার্যত সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামিয়েছে নেতা-কর্মীদের, আর তাতেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শমীক ভট্টাচার্যের এই কঠোর হুঁশিয়ারি দলীয় কর্মীদের সক্রিয় করতে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।





