প্রায় ২৫ দিনের রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযানের পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন টিসিএস (TCS) নাসিক ইউনিটের সেই বিতর্কিত কর্মী নিদা খান। যৌন হেনস্থা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নিদাকে শুক্রবার নাসিক রোড দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে তোলা হয়েছে।
কিভাবে ধরা পড়লেন নিদা? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই নিদা গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের নারেগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয় পুলিশ। সেখানেই নিজের মাসি ও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুক্রবার ভোরে তাঁকে নাসিকে নিয়ে আসা হয়। আদালতের নির্দেশে এই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি বর্তমানে রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলছে।
অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি:
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিদা খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর বিরুদ্ধে কেবল যৌন শোষণ বা হেনস্থাই নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং পরিকল্পিতভাবে ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্য করা এবং অভিযোগকারীদের আইনি পথে হাঁটতে বাধা দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও টাইমলাইন:
২০২২ সালে টিসিএস-এর নাসিক বিপিও ইউনিটে টেলিকলার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন নিদা। পরবর্তীতে তাঁর বদলি হয় মুম্বইয়ের বিভিন্ন শাখায়। গত ২৬ মার্চ দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং নিদা খানের বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর দায়ের হয়। ২৭ মার্চ দানিশ ও তৌসিফকে গ্রেফতার করা হলেও নিদা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এপ্রিল মাস জুড়ে মুম্বই, ভিওয়ান্ডি ও মুমব্রার একাধিক ডেরায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। গত ১৭ এপ্রিল নিদা আগাম জামিনের আবেদন করলেও ২ মে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ: পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মান্তরকরণের নেপথ্যে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না এবং নিদা কিভাবে অভিযোগকারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, তা জানার জন্য তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার দিকে এখন নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।





