দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক অফিসকে কেন্দ্র করে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এক মহিলা কর্মীকে যৌন হেনস্থার ঘটনায় সংস্থার এইচআর (HR) বিভাগের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, বিচার দেওয়ার বদলে উল্টে ওই মহিলা কর্মীকে অভিযোগ না করার জন্য চাপ দেন এইচআর ম্যানেজার।
ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, নাসিক অফিসে কর্মরত এক মহিলা কর্মী তাঁর এক পুরুষ সহকর্মীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত যৌন হেনস্থা ও অশালীন আচরণের অভিযোগ তোলেন। ওই কর্মীর দাবি, তাঁকে দিনের পর দিন কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছিল। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি যখন এইচআর বিভাগের দ্বারস্থ হন, তখন সমাধানের বদলে তাঁকে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।
এইচআর-এর বিতর্কিত মন্তব্য: অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, এইচআর ম্যানেজার তাঁকে বলেন, “কর্পোরেট দুনিয়ায় এসব হয়েই থাকে, এগুলোকে পাত্তা দিও না।” শুধু তাই নয়, ওই মহিলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না করার জন্য নিরুৎসাহিত করা হয় এবং বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড়: ঘটনাটি জানাজানি হতেই নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টাটা গ্রুপের মতো একটি সংস্থায় যেখানে কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও নৈতিকতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে এই ধরনের ঘটনায় অনেকেই স্তম্ভিত। লিঙ্কেডইন এবং টুইটারে (বর্তমানে X) অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলিতে আইনি সুরক্ষা সেল (POSH) থাকা সত্ত্বেও কেন মহিলারা বিচার পাচ্ছেন না?
সংস্থার প্রতিক্রিয়া: এই বিতর্ক সামনে আসার পর TCS-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে বলে জানানো হলেও, অভিযুক্ত এইচআর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনা ফের একবার কর্পোরেট দুনিয়ায় মহিলাদের সুরক্ষা এবং এইচআর বিভাগের দায়িত্বশীলতা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিল।





