SSC নিয়োগে ফের নতুন বিতর্ক! হাইকোর্টের নির্দেশে আটকে গেল ১১শ-১২শ-এর ফল কার্যকর

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা যেন কাটছেই না। এবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) নতুন করে মামলা দায়ের হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। নবম-দশম স্তরের শিক্ষকতা করা প্রার্থীরা উচ্চতর স্তরের (একাদশ-দ্বাদশ) শিক্ষকতার পরীক্ষায় ‘অভিজ্ঞতার জন্য’ ১০ নম্বর পাবেন কি না, তা নিয়েই মূল বিতর্ক। এই কমিশন-সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাটি গ্রহণ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
👉 অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে প্রশ্ন: মামলাকারীর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরীর প্রশ্ন, “উচ্চ ক্লাসে যারা পড়াননি, তারা কী ভাবে অভিজ্ঞতার জন্য দশ নম্বর পেতে পারেন? তারা তো নিচু ক্লাসে শিক্ষকতা করেছেন!” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যোগ্য শিক্ষকরা যাঁরা ইতিমধ্যেই নির্বাচিত, তাঁদের আবার ‘ডেমো’ দিতে বলা অন্যায্য এবং সম্মানহানিকর।”
👉 হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ: এই মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছেন যে, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও মামলার পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তা কার্যকর করা যাবে না। অর্থাৎ, প্রায় ১২,৫১৪টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৩ জন প্রার্থীর যে ফলাফল নভেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত।
👉 ভুল প্রশ্ন নিয়ে দ্বিতীয় মামলা: এদিকে, কমিশনের পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্ন ভুল ছিল। আবেদনকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের অভিযোগ, “এডুকেশন বিষয়ে দুটি, ইতিহাসে একটি ও ভূগোলে তিনটি প্রশ্ন ভুল ছিল।” এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভুল প্রশ্ন নিয়েও দ্বিতীয় মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে, যা বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে।
একদিকে ঘুষের অভিযোগ, ওএমআর জালিয়াতি, অন্যদিকে ভুল প্রশ্ন এবং অভিজ্ঞতার নম্বর—প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের প্রতিটি স্তরেই আইনি জট অব্যাহত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুনরায় পরীক্ষা হলেও ফের তা আদালতের বেঞ্চে পৌঁছল।