SIR প্রক্রিয়ায় আর চলবে না মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড! বাতিল করার কারণ জানাল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া’ (SIR) নিয়ে এবার বড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। অনেক জল্পনার পর কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এসআইআর-এর শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু মানুষের আবেদন প্রক্রিয়া আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত? রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত নির্দেশিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের কোনো উল্লেখ নেই। যদিও রাজ্য নির্বাচন দপ্তর থেকে এটি নথির তালিকায় ঢোকানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কমিশন তা খারিজ করে দিয়েছে। কমিশনের সাফ কথা, নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে অন্য কিছু গ্রাহ্য হবে না।

শুনানিতে কোন ১৩টি নথি কাজে লাগবে? ভুল তথ্য বা অসঙ্গতির কারণে যাদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাদের নিচের যেকোনো একটি নথি সাথে রাখতে হবে: ১. কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার। ২. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের যেকোনো নথি। ৩. জন্মের শংসাপত্র (Birth Certificate)। ৪. পাসপোর্ট। ৫. শিক্ষাগত শংসাপত্র (তবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট নয়)। ৬. স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র (PRC)। ৭. বনাধিকার শংসাপত্র। ৮. জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate)। ৯. এনআরসি (NRC) তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ। ১০. বংশলতিকার শংসাপত্র। ১১. সরকারের দেওয়া জমির নথি। ১২. আধার কার্ড। ১৩. বিহারের এসআইআর নথি।

উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি: এমনিতেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিএলও-দের (BLO) কর্মবিরতি, পদত্যাগ এবং একাধিক মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তার মধ্যেই নথির এই নতুন কড়াকড়ি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy