পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এখন অন্তিম পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সমীক্ষা বা ‘SIR’ প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব ইতিমধ্যেই সমাপ্ত। বর্তমানে চলছে জমা পড়া নথির স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও কমিশন সূত্রে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। মনে করা হচ্ছে, এই চূড়ান্ত তালিকায় একটি বড় অংশের মানুষের নাম বাদ যেতে চলেছে।
ঠিক কোন কোন কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে, তার একটি রূপরেখা পাওয়া গিয়েছে কমিশন সূত্রে:
-
শুনানিতে অনুপস্থিতি: SIR প্রক্রিয়ায় খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় লক্ষ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডেকেছিল কমিশন। কিন্তু বহু মানুষ একাধিকবার তলব করা সত্ত্বেও শুনানি কেন্দ্রে হাজির হননি। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যারা শুনানিতে অংশ নেননি, তাঁদের নাম প্রথমেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
-
সঠিক নথির অভাব: শুনানিতে উপস্থিত হলেও কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে অন্তত একটি বৈধ নথি দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল। অনেক ভোটারই প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি অথবা এমন নথি জমা দিয়েছেন যা কমিশনের তালিকায় নেই। এই ধরণের ভোটারদের নামও বাতিলের তালিকায় থাকছে।
-
নথিতে জালিয়াতি ও অসঙ্গতি: স্ক্রুটিনি চলাকালীন বহু নথিতে অবিশ্বাস্য অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কোথাও দেখা গিয়েছে ভোটারের জন্মের আগেই তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, আবার কোথাও একজনের ১০-১২ জন সন্তানের বিচিত্র তথ্য মিলেছে। এছাড়া যারা জালি বা ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের নাম শুধু বাদই যাবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথেও হাঁটতে পারে কমিশন।
কতটা বড় হতে পারে এই বাদ যাওয়ার সংখ্যা? কমিশন সূত্রে খবর, SIR খসড়া তালিকা থেকেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপর শুনানির পর প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম সরাসরি বাদ পড়ার তালিকায় চলে এসেছে। তবে স্ক্রুটিনি শেষে এই সংখ্যাটা আরও কয়েক লক্ষ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত লিস্টই ঠিক করবে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে কার হাতে থাকবে ভোটাধিকার আর কার নাম মুছে যাবে তালিকা থেকে।