পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ‘১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম রাতারাতি নথিভুক্ত’ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে হাজির হয়ে তিনি এই বিপুল সংখ্যক এন্ট্রির অডিট করানোর দাবি জানান।
দুর্নীতির অভিযোগ এবং দাবি
শুভেন্দু অধিকারীর মূল অভিযোগ:
-
সময়সীমার আগে নথিভুক্তিকরণ: তাঁর দাবি, ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর স্পেশাল রোল অবজারভারদের নিয়োগ করার আগেই এই নামগুলি ডেটা এন্ট্রির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
-
দায়ী ERO-AERO: তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুর্নীতির সঙ্গে নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অতিরিক্ত নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)-রা জড়িত।
-
I-PAC-এর হস্তক্ষেপ: বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন যে, ১৭,১১১টি বুথের বিএলও-দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তাদের থেকে ওটিপি (OTP) নিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম নথিভুক্ত করেছে I-PAC। ফলতার এক বিএলও-কে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
দুই আধিকারিককে সরানোর দাবি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা
শুভেন্দু অধিকারী অবিলম্বে দু’জন সরকারি আধিকারিককে সরানোর দাবি জানান: বিজয় ভারতী এবং পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। তিনি আরও দাবি করেন, যা গরমিল হয়েছে, সবকিছুর তদন্ত স্বতন্ত্র কোনও এজেন্সি দিয়ে করাতে হবে এবং অনুপ্রবেশকারী ও লক্ষ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে।
বিএলও-দের বিক্ষোভের মুখে পড়ার পর শুভেন্দু অধিকারী CEO-র দফতরসহ আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-সহ নির্বাচন কমিশনের অন্য আধিকারিক, স্পেশাল রোল অবজারভার ও বিএলও-দের নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
শুনানিতে সিসিটিভি ও মাইক্রো অবজারভারের দাবি
বিরোধী দলনেতা দাবি জানান, SIR-এর ফর্ম পূরণের পর যে শুনানি প্রক্রিয়া হবে, তা সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই করতে হবে। তিনি জানান, কমিশনের তরফে তা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং তিনি “সিসিটিভি নিয়ে সন্তুষ্ট”।
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, যে ৩৪০-৩৫০টি বিডিও অফিসে শুনানি হবে, সেখানে মাইক্রো অবজারভার দিতে হবে, যাঁরা হবেন নিরপেক্ষ এবং রাজ্য সরকারি কর্মী হবেন না।
বিক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি
CEO দফতরে ঢোকার সময় বিএলও-দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্বয়ং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ঘটনাস্থলে আসেন। বিক্ষোভ এবং মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নিয়ে তিনি ১৪৪ ধারা জারির পরও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
CEO-র সঙ্গে আলোচনার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার নজিরবিহীন দাবি করেন শুভেন্দু। পরে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও হুঁশিয়ারি দেন—“৪২ লক্ষ গেছে, ভূত তাড়াবো,” এবং ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ঘোষণা করেন।