SIR-এর মাঝেই চরম উত্তেজনা! নির্বাচন কমিশনে মমতার বিরুদ্ধে নালিশ বিরোধী দলনেতার; কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্যে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এবার চরম আকার নিল। ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (EC) কাছে চিঠি পাঠালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই ‘বিস্ফোরক’ চিঠি ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

কী অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার একটি দীর্ঘ চিঠি নির্বাচন কমিশনকে পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। চিঠিতে বিরোধী দলনেতার প্রধান দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নাকি তাঁর ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাজে বাধা দিচ্ছেন।

মমতার চিঠিকে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বললেন শুভেন্দু

গত ২০ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে যে চিঠি দিয়েছিলেন, তাকে ‘ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা’ বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যের শাসক দল বছরের পর বছর ধরে ভুয়ো ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই সেই সব ‘অনিয়ম’ সামনে আসছে।

চিঠিতে শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ভয় দেখাচ্ছেন এবং কমিশনের নির্দেশ মানতে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি, তিনি মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) বিরুদ্ধেও অযথা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পরিবেশ উত্তপ্ত করছেন বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ ‘গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত’।

‘SIR শুরু হতেই অনুপ্রবেশকারীরা পালানোর চেষ্টা করছে’

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু অনুপ্রবেশকারী পালানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, এদের অনেকেই ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অনেকের ভাতা রাজ্য সরকার আটকে দিয়েছে, যাতে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং সেই দায় কমিশনের উপর চাপানো যায়।

চিঠির শেষে শুভেন্দু নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছেন, দৃঢ় হাতে SIR প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে এবং ভোটার তালিকা যেন সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ রাখা হয়। এখন দেখার, শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কী অবস্থান নেয়।