SIR-এর কাজে ব্যস্ততা থাকলেও থামানো যাবে না উন্নয়ন, জেলাশাসকদের কঠোর বার্তা মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজ্যের প্রশাসনের ওপর কাজের চাপ যথেষ্ট বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় শনিবার নবান্নে রাজ্যের সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ
শনিবার নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যসচিব। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এসআইআর শুরু হওয়ার পর প্রশাসনের ব্যস্ততা বাড়লেও মনোজ পন্থ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, অন্য কোনও কাজের অজুহাত দেখিয়ে সরকারি প্রকল্পে দেরি হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মুখ্যসচিব সরাসরি ‘এসআইআর’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও যেন উন্নয়নমূলক কাজে কোনো শিথিলতা না আসে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের ধারণা, রাজ্যের মূল লক্ষ্য হল, এই বাড়তি চাপ যেন পরিষেবা দানের ক্ষেত্রে বাধা না হয়।
১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ
সূত্রেরা আরও জানান, মুখ্যসচিব রাজ্যের জনহিতকর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যাতে কোথাও কাজ আটকে না যায়, তা দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
‘বাংলার বাড়ি’
‘জলস্বপ্ন’
‘পথশ্রী’
স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণদান কর্মসূচি
পাশাপাশি, ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের যে সব দাবি জমা পড়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করে রিপোর্ট নবান্নে পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, গ্রামীণ সড়ক প্রকল্প কোথাও থমকে রয়েছে কি না, উপভোক্তার তালিকা ঠিক মতো মানা হচ্ছে কি না, সে সবও খতিয়ে দেখতে বলেছেন মনোজ পন্থ। প্রশাসনের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক পরিষেবায় কোনো বিঘ্ন না ঘটানো। মুখ্যমন্ত্রীও আগেই একই বার্তা দিয়েছিলেন— এসআইআর-এর চাপ থাকলেও উন্নয়ন থামানো যাবে না।