একদিকে রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR নিয়ে টানটান উত্তেজনা, আর এরই মাঝে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। একটি নির্দিষ্ট বুথের ভোটার তালিকা থেকে একসঙ্গে ৩৪০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাদ পড়া তালিকার ১০০ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের এবং তালিকায় খোদ বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর নামও রয়েছে!
এক ধাক্কায় ৩৪০ জনের নাম ‘ডিলিট’! উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বেগমপুর বিবিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরা গ্রামের ৫ নম্বর বুথ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৯৯২ জন। মৃত্যু বা স্থান পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই ৩৮ জনের নাম বাদ গিয়েছিল। কিন্তু গোলমাল বাঁধে বাকিদের নিয়ে। অভিযোগ, ৩৫৮ জনকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও শেষ পর্যন্ত ২৩ তারিখ প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে দেখা যায় ৩৪০ জনের নামই চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাদ গেলেন খোদ সরকারি কর্মী (BLO) সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই বুথের বিএলও শফিউল আলমের নামও বাদ পড়েছে এই তালিকা থেকে। শফিউল আলমের অভিযোগ, “আমি নিজে বিএলও হিসেবে প্রত্যেকের নথি কমিশনের নিয়ম মেনে আপলোড করেছি। শুনানিতেও সবাই হাজির ছিলেন। অথচ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণেই কি আমাদের নাম বাদ দেওয়া হলো?” ক্ষুব্ধ বিএলও বিডিও (BDO) এবং ইআরও (ERO)-র দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রভাবিত ভোটারদের অন্যতম কাজিরুল মণ্ডলের দাবি, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ১১টি নথির মধ্যে একটি দিলেই চলে, আমরা ৩-৪টি করে নথি জমা দিয়েছি। তাও নাম বাদ গেল! কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চাপেই কি কমিশন এমন কাজ করছে?”
বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা এই খবর জানাজানি হতেই কয়েক’শ ভোটার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাতের অন্ধকারে বিএলও-র বাড়িতে ভিড় জমান ক্ষতিগ্রস্তরা। প্রশাসনের উচ্চস্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা না মেলায় এখন আদালতের বা ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম।
ভোটের মুখে বসিরহাটের এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।