পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Interactive Revision) নিয়ে এবার সামনে এল এক বিস্ফোরক পরিসংখ্যান। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত যে ৩২ লক্ষ ভোটারের নথিপত্র পরীক্ষা বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ সম্পন্ন হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বা ১২.৮ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্রে সন্তুষ্ট হতে না পেরেই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন বা ‘কন্ট্রোভার্সিয়াল’ তালিকায় ছিল। কমিশন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই তালিকা নিষ্পত্তির কাজ চালাচ্ছে:
-
৩২ লক্ষ: বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তি হওয়া নামের সংখ্যা।
-
৪০%: এই ৩২ লক্ষের মধ্যে যাদের নাম স্থায়ীভাবে বাদ (Delete) দেওয়া হয়েছে।
-
১২.৮ লক্ষ: এখনো পর্যন্ত নাম বাদ পড়া মোট ভোটারের সংখ্যা।
-
২ লক্ষ: প্রতিদিন গড়ে এত সংখ্যক নামের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হচ্ছে।
নাম বাদ গেলেও আশা হারাবেন না: কী করবেন?
যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বাদ পড়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। নাম ফিরে পেতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
-
অনলাইন আবেদন: সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ECI.Net-এ গিয়ে আবেদন করা যাবে।
-
অফলাইন আবেদন: নিজের এলাকার বিডিও (BDO), মহকুমা শাসক (SDO), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) বা জেলাশাসকের (DM) অফিসে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।
-
পরবর্তী ধাপ: আবেদন জমা পড়ার পর পুনরায় শুনানি (Hearing) শুরু হবে এবং নথিপত্র সঠিক থাকলে নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতি সপ্তাহেই কমিশন নতুন নতুন লিস্ট প্রকাশ করবে। তবে এই বাদ পড়া ভোটাররা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে কমিশন এখনো নিশ্চিত কোনো বার্তা দেয়নি।
রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, “১০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে বলে আমি শুনেছি।” অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপির দুর্বল কেন্দ্রগুলোতে বেছে বেছে মহিলা ভোটারদের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছে। বসিরহাটের মতো এলাকায় যেখানে একটি বুথ থেকেই ৩৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে, সেখানে এই নতুন পরিসংখ্যান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে SIR আতঙ্ক উসকে দিল।