“SIP-তে বিনিয়োগ কমছে হু হু করে”-শেয়ার বাজারে পকেট ফাঁকা হচ্ছে আমজনতার?

ইয়ার-টিল-ডেট এর হিসেবে বিচার করলে শনিবার পর্যন্ত সেনসেক্সের পতন ঘটেছে ৭৯২৪.০৯ পয়েন্ট বা ৯.৩০ শতাংশ। নিফটি৫০-র অবস্থাও প্রায় একই রকম, যেখানে পতন হয়েছে ১৯৭০.৯০ পয়েন্ট বা ৭.৫৪ শতাংশ। গত ১২ মাসের পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই সূচকই বর্তমানে লালের ঘরে অবস্থান করছে। এই ভয়াবহ চিত্রই যেন সত্য প্রমাণ করছে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টকে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে দালাল স্ট্রিট এখন এশিয়ার সবচেয়ে ‘লিস্ট-প্রেফার্ড’ বা কম পছন্দের শেয়ারবাজার হয়ে উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, ভারতীয় সংস্থাগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের অভাবই বিনিয়োগকারীদের ভারতবিমুখ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। এর পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার শ্লথ হওয়া, ধারাবাহিক সংস্কারের অভাব এবং ওভার-ভ্যালুয়েশনের মতো নানা সমস্যা এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শেয়ারবাজারের অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার তথ্য বলছে, জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়া যেখানে নেট আন্ডারওয়েট ছিল, অগস্টে তারা পাঁচ ধাপ এগিয়ে ভারতকে সেই তলানিতে ঠেলে দিয়েছে। বাজারের এই শ্লথ গতি অদূর ভবিষ্যতে সহজে যে ঘুরে দাঁড়াবে না, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন অনেক লগ্নিকারীই।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঘরোয়া বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণেও। বাজারের মন্দা সামলানোর প্রধান হাতিয়ার মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানেও (SIP) এবার ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। সেবির তথ্য অনুযায়ী, করোনা পরবর্তী সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ছোট বা কম অঙ্কের এসআইপি অ্যাকাউন্ট (মাসিক ১০০০ টাকা বা তার কম) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কমেছে ১৪ লক্ষ। অথচ এর আগের দুটি অর্থবর্ষে এই অ্যাকাউন্ট যথাক্রমে ৩৭ শতাংশ এবং ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ২০২৩-২৪ সালের চাঙ্গা বাজারে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত লাভের আশায় ছোট পুঁজি নিয়ে এসআইপি শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত বছর এপ্রিলে ট্রাম্পের ট্যারিফের বোঝা চাপার পর থেকে বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে অনেকেরই রিটার্ন লাল ঘরে চলে গেছে। আর তাতেই আশাহত হয়ে ছোট লগ্নিকারীরা এসআইপি বন্ধ করে দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের অন্য একটি অংশ মনে করছেন, এই ছোট এসআইপি অ্যাকাউন্টধারীদের একটি বড় অংশই না বুঝে বা হুজুগে বিনিয়োগ করেন। বাজার চাঙ্গা থাকলে তাঁরা যেমন লাফিয়ে বিনিয়োগ করেন, তেমনই মন্দা দেখলেই বাজার ছাড়ার হিড়িক পড়ে যায়। অন্যদিকে, আশাবাদী মহলের দাবি, ছোট বিনিয়োগকারীরা হয়তো বড় অঙ্কের এসআইপিতে নিজেদের আপগ্রেড করছেন। সব মিলিয়ে দালাল স্ট্রিটের এই গোলকধাঁধায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ লগ্নিকারীদের ভাগ্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।