শরীরে অজস্র তিল জমছে? এই মারাত্মক লক্ষণ অবহেলা করলেই বড় বিপদ, জানুন আসল সত্যি!

মানব দেহের ত্বক প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি, যেখানে ছোট-বড় তিল বা মোল (Mole) থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। শৈশব বা কৈশোরে শরীরের বিভিন্ন অংশে তিল বা জরুল গজিয়ে ওঠা খুব সাধারণ ঘটনা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের গবেষণা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। মানুষের শরীরে তিলের উপস্থিতি কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বা রূপের বিচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মারাত্মক কোনো রোগের পূর্বলক্ষণ বা সংকেত হতে পারে। সঠিক সময়ে শরীরের তিলগুলোর পরিবর্তনের দিকে নজর না দিলে তা পরবর্তীতে মারণ ব্যাধি পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশিষ্ট অনকোলজিস্ট ও ডার্মাটোলজিস্টরা।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, আমাদের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষগুলির অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে তিলের সৃষ্টি হয়। সাধারণত জন্মগত বা সাধারণ তিলগুলি সম্পূর্ণ নিরীহ প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এগুলির রঙ ও আকারে বিশেষ কোনো পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন কোনো পুরনো তিল হঠাৎ করে দ্রুত বড় হতে শুরু করে, তার আকার বা বর্ডার অনিয়মিত হয়ে যায় কিংবা তার রঙে কালচে, লালচে বা নীলচে শেডের মিশ্রণ দেখা দেয়। অনেক সময় এই ধরনের তিল থেকে চুলকানি, রক্তপাত বা তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলি সাধারণ কোনো তিল নয়, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক স্কিন ক্যানসার বা ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমার (Malignant Melanoma) প্রাথমিক প্রকাশ হতে পারে।

তাই নিজের শরীরকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে শরীরের প্রতিটি তিলের গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রোদে নিয়মিত বের হওয়ার ফলে যাঁদের ত্বকে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব বেশি পড়ে, তাঁদের ক্ষেত্রে তিলের রূপ পরিবর্তন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। যদি কোনো তিলের মধ্যে হঠাৎ অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়, তবে কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্যানসার সার্জনের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। একটু সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই পারে আপনাকে যেকোনো বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় বা মারাত্মক বিপদের হাত থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে।