কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর নিয়মিত আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেকের কাছেই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে বার্ধক্য হতে পারে নিশ্চিন্ত এবং সচ্ছল। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বর্তমানে পোস্ট অফিসের একটি বিশেষ স্কিম জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, যেখানে টাকা রাখলে প্রতি মাসে মোটা টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে।
সুরক্ষিত বিনিয়োগ: সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS)
পোস্ট অফিসের এই স্কিমটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত, তাই এখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। বর্তমান বাজারে যেখানে অনেক ব্যাঙ্ক ফিক্সড ডিপোজিটে (FD) সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছে, সেখানে পোস্ট অফিস এই স্কিমে দিচ্ছে আকর্ষণীয় ৮.২% সুদ।
কীভাবে মাসে পাবেন ২০,৫০০ টাকা?
এই স্কিমের অঙ্কটা অত্যন্ত সহজ। নিয়ম অনুযায়ী:
-
যদি একজন প্রবীণ নাগরিক এই স্কিমে এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন।
-
৮.২ শতাংশ বার্ষিক সুদের হারে তিনি প্রতি বছর মোট ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা সুদ পাবেন।
-
অর্থাৎ, প্রতি মাসে আপনার হাতে আসবে প্রায় ২০,৫০০ টাকা। বিনিয়োগের এই টাকা ৫ বছরের জন্য লক-ইন থাকে, তবে প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের টাকা সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
বিনিয়োগের সেরা সুবিধাগুলি:
১. কর ছাড়: আয়কর আইনের ৮০সি (80C) ধারা অনুযায়ী, এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স ছাড় পাওয়া সম্ভব। ২. নিশ্চিন্ত রিটার্ন: শেয়ার বাজারের ওঠানামার সাথে এর কোনও সম্পর্ক নেই, তাই আপনার মূলধন এবং সুদ দুই-ই সুরক্ষিত। ৩. ন্যূনতম ঝুঁকি: যেহেতু এটি পোস্ট অফিসের স্কিম, তাই এখানে বিনিয়োগের সুরক্ষা ১০০ শতাংশ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
নাম থেকেই স্পষ্ট যে এটি মূলত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁদের প্রাপ্ত গ্র্যাচুইটি বা সঞ্চয়ের টাকা এখানে বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন বা আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন।
উপসংহার: “বসে খেলে কুবেরের ধনও শেষ হয়”—এই প্রবাদ মাথায় রেখেই অলস টাকা জমিয়ে না রেখে সঠিক স্কিমে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পোস্ট অফিসের SCSS হতে পারে আপনার অবসরের সেরা সঙ্গী।