OYO-রুমে রমরমিয়ে দেহ ব্যবসা! পুলিশের জালে দিল্লি-পশ্চিমবঙ্গের ৪ যুবতী

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে একটি OYO হোটেলের ভেতরে রমরমিয়ে চলা এক সেক্স র্যাকেটের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বারাণসীর কেন্ট এলাকার একটি টাউন হাউস হোটেলে হানা দেয় পুলিশ। হোটেলের ভেতরের দৃশ্য দেখে তদন্তকারীদের চক্ষু চড়কগাছ।
এই ঘটনায় দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের চারজন যুবতীকে দেহ ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যেভাবে চলছিল অবৈধ কারবার
পুলিশের কাছে গোপন খবর আসে যে, দীর্ঘ সময় ধরে এই হোটেলটিতে দেহ ব্যবসার রমরমা কারবার চলছিল। শুধু অন্যান্য রাজ্য নয়, বিদেশ থেকেও যুবতীদের ফুসলিয়ে এনে গ্রাহকদের কাছে ‘সাপ্লাই’ করা হতো। এই তথ্যের ভিত্তিতেই বারাণসীর ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়।
- গ্রেফতার: হোটেলের রুম থেকে ৪ যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়।
- স্বীকারোক্তি: জিজ্ঞাসাবাদে যুবতীরা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা একজন এজেন্টের মাধ্যমে বারাণসী পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে গ্রাহকদের সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁদের।
ADCP বরুণা নীতু কটারিয়া বলেন, “হোটেলে দেহ ব্যবসার অভিযোগ পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
উদ্ধার হলো একাধিক আপত্তিজনক বস্তু
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দেহ ব্যবসায় ব্যবহৃত একাধিক আপত্তিজনক বস্তু বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়া, তদন্তকারীদের অনুমান নিশ্চিত করতে রুম থেকে মোবাইল ফোন এবং একটি ডায়েরিও উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই OYO হোটেলে অবৈধ কারবার চলছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।
হোটেল মালিক ও এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা
এই দেহ ব্যবসার কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হোটেল মালিক, ট্রাভেল এজেন্ট এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত দসমীত সিং, অমন রায়, পীযূষ জয়সওয়াল, উমেশ যাদব এবং শিবম শর্মার নামে FIR দায়ের হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কোন কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মহিলাদের বারাণসীর এই OYO হোটেলে নিয়ে আসা হতো, তা জানতে তদন্ত চলছে। ADCP কটারিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, বারাণসীতে কোনও হোটেল কিংবা ট্রাভেল এজেন্সি মারফত যেন এমন অবৈধ কাজ আর না ঘটে, তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।